খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬
সুন্দরবনের পূর্ব বনাঞ্চলে হরিণ শিকারের ফাঁদে আটকে পড়া চার বছরের নারী বাঘকে সুস্থ করে তার প্রাকৃতিক আবাসস্থলে ফেরানো নিয়ে বন বিভাগ, বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকরা তিনটি মূল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বাঘটি দুর্বল হলেও খাদ্য ও পানি গ্রহণ শুরু করেছে এবং ক্ষিপ্ততা ফিরে এসেছে। তবে তার বাম হাতের গভীর ক্ষত, শরীরের পানিশূন্যতা এবং পেশি পুনর্বাসন (Muscle Recovery) সম্পূর্ণভাবে শিকার ধরার উপযোগী করা এখন প্রধান বাধা।
বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাঘটি বর্তমানে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। খুলনা আঞ্চলিক বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, “বাঘটির অবস্থা ধীরে ধীরে উন্নতির পথে, তবে তার সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া এখনও নিশ্চিত নয়।”
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের নেতৃত্বে ঢাকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদল বুধবার সকালে বাঘটির নিবিড় পর্যবেক্ষণ করেন। তাদের মতে, বাঘটির চলনভঙ্গি স্বাভাবিক এবং হাড় ভাঙার কোনো চিহ্ন নেই, যা আশাব্যঞ্জক। তবে শিকার ধরার উপযোগী করার জন্য তিনটি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা আবশ্যক।
| চ্যালেঞ্জ ক্রমিক | সমস্যা | ব্যাখ্যা |
|---|---|---|
| ১ | বাম হাতের ক্ষত | ফাঁদে আটকে থাকার কারণে সামনের বাম থাবা আংশিকভাবে কাজ করা বন্ধ, শিকার ধরার ক্ষমতা যাচাই প্রয়োজন |
| ২ | ডিহাইড্রেশন | দীর্ঘ সময় পানি না পেয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে, স্বাভাবিক শক্তি ও প্রতিরোধ ক্ষমতা ফিরতে হবে |
| ৩ | পেশি দুর্বলতা | দীর্ঘ সময় অচল থাকার কারণে পেশি দুর্বল, শিকারের জন্য যথেষ্ট শক্তি ও স্থিতিস্থাপকতা প্রয়োজন |
ঢাকার সেন্ট্রাল ভেটেরিনারি হসপিটালের এডিশনাল ভেটেরিনারি অফিসার ডা. নাজমুল হুদা বলেন, “বাঘকে বনে ছাড়া হলে তাকে নিজের পরিশ্রমে শিকার ধরতে হবে। তাই থাবা কার্যকর কিনা, শরীরের পানি ও পেশি শক্তি পুনরুদ্ধার হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।”
সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধূরী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “এ ধরনের তৎপরতা বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলে সীমিত সময়ে নেওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দেশে পর্যাপ্ত ভেটেরিনারি হাসপাতাল, জরুরি উদ্ধার সরঞ্জাম ও অভিজ্ঞ জনবল নেই। তাই দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসার জন্য ওয়াটার অ্যাম্বুল্যান্স, বিশেষজ্ঞ ও জনবল ব্যবস্থা জরুরি।”
সাংবাদিক সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সুন্দরবনে হরিণ শিকারের ফাঁদ ও বাঘ আটক সংক্রান্ত ঘটনায় তদন্ত চলছে। আহত বাঘটি সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সম্পূর্ণ নিরিবিলি পরিবেশে রাখা হয়েছে এবং বন কর্মকর্তারা স্থানীয়দের অযথা ভিড় এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
বাঘটির পূর্ণ পুনর্বাসন এবং তার প্রাকৃতিক আবাসস্থলে ফেরার সময়সূচি মূলত তিনটি চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করার উপর নির্ভর করছে। বন ও চিকিৎসকরা আশাবাদী যে, সঠিক যত্নের মাধ্যমে দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে বাঘটি তার প্রাকৃতিক বনে ফিরে যেতে পারবে।