খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে কার্তিক ১৪৩২ | ২৯ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেটের ব্যবহার বন্ধ ও টেলিযোগাযোগ খাতে নিরাপত্তা জোরদার করতে আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে চালু হচ্ছে ‘ন্যাশনাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার’ (এনইআইআর) সিস্টেম। এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে নিবন্ধনবিহীন বা আনঅফিসিয়াল মোবাইল ফোন দেশের কোনো মোবাইল নেটওয়ার্কেই আর ব্যবহার করা যাবে না বলে আশা করা হচ্ছে।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
তিনি বলেন, এনইআইআর চালুর মাধ্যমে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। এই কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি মোবাইল হ্যান্ডসেটের আন্তর্জাতিকভাবে অনুমোদিত আইএমইআই নম্বর ব্যবহারকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ব্যবহৃত সিমের সঙ্গে যুক্ত করে নিবন্ধিত হবে। ফলে বৈধ ও অবৈধ হ্যান্ডসেট সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আরও জানান, এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে অবৈধভাবে আমদানিকৃত বা নকল মোবাইল ফোনের ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হবে। এতে সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে এবং দেশীয় মোবাইল উৎপাদন শিল্প আরও সুরক্ষিত হবে। পাশাপাশি চুরি বা অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত ডিভাইস শনাক্ত ও ব্লক করা যাবে, যা অপরাধ দমনেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, ‘এনইআইআর শুধু একটি প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নয়; এটি নাগরিকের নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও টেলিযোগাযোগ খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জাতীয় অঙ্গীকার।’
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিটিআরসির পাশাপাশি দেশের চারটি মোবাইল অপারেটর—গ্রামীণফোন, রবি আজিয়াটা, বাংলালিংক ও টেলিটক—নিজস্ব ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (ইআইআর) সিস্টেম উন্নয়নে কাজ করছে।
বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, এনইআইআর চালুর ফলে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) জালিয়াতি, সিম প্রতারণা ও স্ক্যাম কার্যকরভাবে রোধ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ইকেওয়াইসি যাচাই আরও শক্তিশালী হবে, টেলিকম খাতের নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং রাজস্ব আদায়ও বাড়বে।
তিনি উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মী ও অপারেটর প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশের টেলিকম খাত একটি নিরাপদ ও স্বচ্ছ যুগে প্রবেশ করবে। বৈধ হ্যান্ডসেট ব্যবহারে সবাইকে উৎসাহিত করতে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালান।’
এ সময় বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারীসহ কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।