খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬
চট্টগ্রাম নগরীতে খতনা করানোর সময় সাত বছর বয়সী মোহাম্মদ মোস্তফা নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তার আকস্মিক মৃত্যু সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় শুক্রবার (০৭ জানুয়ারি) পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
ডেপুটি সিভিল সার্জন মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ারকে কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, “কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও চিকিৎসাগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মোস্তফা শনিবার (০৩ জানুয়ারি) সার্জারির জন্য প্রথমে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সন্ধ্যা ৬টায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। তবে রাত ১০টার দিকে আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যু সনদে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়া (হার্ট অ্যাটাক) উল্লেখ করা হয়েছে।
মৃত শিশুর পরিবার বোয়ালখালী উপজেলার পূর্ব গোমদণ্ডি গ্রামের বাসিন্দা। মোস্তফা পরিবারের বড় সন্তান এবং তার এক ভাই রয়েছে। বাবা আবু মুসা অভিযোগ করেছেন, “অ্যানেসথেসিয়ার ভুল প্রয়োগের কারণে আমার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। প্রথম হাসপাতালেই তার চিকিৎসা চলছিল, তবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ জুনাইদ চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে সার্জারি চলছিল।”
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, “সাধারণত খতনার সময় স্পাইনাল অ্যানেসথেসিয়া ব্যবহার করা হয়। এই ধরনের চিকিৎসায় বিরল কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে আরও বিস্তারিত মেডিকেল তথ্য প্রয়োজন।”
| তারিখ ও সময় | ঘটনা | স্থান | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ০৩ জানুয়ারি | খতনার জন্য ভর্তি | বহদ্দারহাট বেসরকারি হাসপাতাল | প্রথম সার্জারি প্রস্তুতি |
| ০৩ জানুয়ারি, ৬টা | স্থানান্তর | চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল | শিশু সার্জারি বিভাগে স্থানান্তর |
| ০৩ জানুয়ারি, ১০টা | মৃত্যু | আইসিইউ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ | মৃত্যু সনদে হার্ট অ্যাটাক উল্লেখ |
| ০৭ জানুয়ারি | তদন্ত কমিটি গঠন | জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় | পাঁচ সদস্যের কমিটি, সভাপতিঃ ডেপুটি সিভিল সার্জন |
পরিবারের অভিযোগ এবং হাসপাতালের প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে এই মৃত্যু একটি সংবেদনশীল ও গভীর তদন্তের দাবি তুলেছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও সম্ভাব্য দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে।