খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬
সুন্দরবনে পর্যটক অপহরণের মূল হোতা মাসুম মৃধা (২৩)কে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে ধানখালী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আবরার হাসান জানান, গ্রেফতারির পর মাসুম মৃধার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সুন্দরবনের গাজী ফিশারিজ সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রচুর অস্ত্র, কার্তুজ, দা-ছুরিসহ জিম্মি পর্যটকদের মালামাল উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত মাসুমের কাছ থেকে জব্দ জিনিসপত্রের বিবরণ নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| জব্দকৃত মালামাল | পরিমাণ |
|---|---|
| দেশি ওয়ান-শুটার পাইপগান | ৩টি |
| তাজা কার্তুজ | ৮ রাউন্ড |
| ফাঁকা কার্তুজ | ৪ রাউন্ড |
| চাইনিজ কুড়াল | ১টি |
| দেশি কুড়াল | ২টি |
| দা | ১টি |
| স্টিল পাইপ | ১টি |
| মাদক সেবনের সরঞ্জাম | বিভিন্ন |
| জিম্মি পর্যটকদের মোবাইল ফোন | ৫টি |
| জিম্মি পর্যটকদের হাতঘড়ি | ১টি |
মাসুমের নেতৃত্বাধীন ডাকাতচক্র গত ২ জানুয়ারি গোলকানন রিসোর্ট থেকে কানুরখাল সংলগ্ন এলাকায় কাঠের বোটে ভ্রমণরত দুই পর্যটক ও রিসোর্ট মালিককে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করেছিল। কোস্টগার্ড যৌথ অভিযান পরিচালনা করে গোয়েন্দা তথ্য, ড্রোন নজরদারি এবং ফিন্যান্সিয়াল ট্রেসিং ব্যবহার করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করে।
সুন্দরবনে অভিযানকালে আরও আটজনকে আটক করা হয়েছে। গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন কুদ্দুস হাওলাদার (৪৩), সালাম বক্স (২৪), মেহেদী হাসান (১৯), আলম মাতব্বর (৩৮), অয়ন কুন্ডু (৩০), ইফাজ ফকির (২৫), জয়নবী বিবি (৫৫) এবং মোছা দৃধা (৫৫)। তাদেরকে দাকোপ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আবরার হাসান জানান, সুন্দরবন বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা, উপকূলীয় জীবিকা, পর্যটন শিল্প এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কিছু ডাকাতচক্র বনজ সম্পদ লুণ্ঠন, জেলে ও বনজীবীদের অপহরণসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। এসব কর্মকাণ্ড পর্যটন শিল্প ও স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
গত এক বছরে কোস্টগার্ড সুন্দরবনে পরিচালিত অভিযানে ৩৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২টি হাতবোমা, ৭৪টি দেশি অস্ত্র, ৪৪৮ রাউন্ড কার্তুজ এবং ৫২ জন জিম্মি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া মোট ৪৯ জন সক্রিয় ডাকাতকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে সক্রিয় করিম শরিফ বাহিনী, জাহাঙ্গীর বাহিনী ও দয়াল বাহিনীকে দমন করতে কোস্টগার্ড টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে।
কোস্টগার্ড জানিয়েছে, ধারাবাহিক অভিযান ও নজরদারির মাধ্যমে সুন্দরবনের নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে এবং পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণের নিশ্চয়তা প্রদান করা হবে।