খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট ২০২৫
প্লাস্টিক দূষণ দিন দিন শুধু পরিবেশ নয়, মানবস্বাস্থ্যের জন্যও ভয়াবহ হুমকিতে পরিণত হচ্ছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের নানা রোগ এবং মৃত্যুর পেছনে ভূমিকা রাখছে এটি। প্লাস্টিক দূষণজনিত কারণে প্রতি বছর স্বাস্থ্য খাতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার। বিশ্বের অন্যতম চিকিৎসা বিষয়ক সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট’-এ প্রকাশিত এক বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৫০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্লাস্টিক উৎপাদনের পরিমাণ বেড়েছে ২০০ গুণের বেশি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ২০৬০ সালের মধ্যে এই উৎপাদন বেড়ে বছরে এক বিলিয়ন টনে পৌঁছাবে। যদিও প্লাস্টিকের কিছু প্রয়োজনীয় ব্যবহার আছে, তবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে একবার ব্যবহারযোগ্য (single-use) প্লাস্টিকের ব্যবহার—যেমন পানির বোতল ও ফাস্টফুড প্যাকেট। এর ফলে ভয়াবহ মাত্রায় বেড়েছে দূষণ। এখন পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি প্রান্তে, এমনকি মাউন্ট এভারেস্টের চূড়া থেকে শুরু করে সমুদ্রের গভীর তলদেশ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে প্রায় আট বিলিয়ন টন প্লাস্টিক।
বিশ্বজুড়ে ১০০টিরও বেশি দেশ প্লাস্টিক উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে আইন করতে চাইলেও সৌদি আরবসহ বেশ কিছু পেট্রোলিয়ামনির্ভর দেশ এর বিরোধিতা করছে।
প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ও বোস্টন কলেজের শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ফিলিপ ল্যান্ড্রিগান বলেন, ‘প্লাস্টিক দূষণের যে ভয়াবহ স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত প্রভাব, তা আমরা আগেই জেনেছি।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে গর্ভের শিশু, নবজাতক ও ছোটদের ওপর। প্লাস্টিকের রাসায়নিক উপাদান গর্ভপাত, অপরিণত শিশু জন্ম, জন্মগত ত্রুটি, ফুসফুসের গঠনে সমস্যা, প্রজনন অক্ষমতা এবং এমনকি কিশোর বয়সে ক্যান্সারের মতো রোগের জন্ম দিতে পারে।
শরীরেও মিলছে প্লাস্টিকের উপস্থিতি—মানুষের রক্ত, মস্তিষ্ক, গর্ভফুল, বুকের দুধ, শুক্রাণু ও অস্থিমজ্জায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা। পানি, খাবার ও বাতাসের মাধ্যমে এসব কণা মানবদেহে প্রবেশ করছে বলে জানিয়েছে ‘দ্য গার্ডিয়ান’।
খবরওয়ালা/টিএসএন