খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে পৌষ ১৪৩২ | ৮ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ফুটবল বিশ্বের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র আজ চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন। লিডস ইউনাইটেড ও ওয়েলস দলের প্রিয় খেলোয়াড় ও কোচ টেরি ইয়োরাথ ৭৫ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর জীবন কেবল ফুটবল প্রেমীদের জন্য নয়, বরং সকলের জন্য এক অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ফুটবলের মাঠে তাঁর নেতৃত্ব, সাহস এবং উদারতা আজও সবার মনে অম্লান হয়ে আছে।
ইয়োরাথের পেশাদার ফুটবল যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৭ সালে লিডস ইউনাইটেডে, যেখানে তিনি ৯ বছর ধরে শীর্ষ স্তরের খেলোয়াড় হিসেবে ক্লাবের সাফল্যের অন্যতম স্তম্ভ ছিলেন। লিডসের হয়ে খেলতে গিয়ে তিনি মোট ১৯৯ ম্যাচে ১১ গোল করেছেন। তাঁর সময়ে ক্লাবটি ১৯৭৪ সালে ফার্স্ট ডিভিশন শিরোপা জিতেছিল, এবং তিনি ফা কাপ, ইউরোপীয় কাপ এবং কাপ উইনার্স কাপের রানার্স-আপও ছিলেন।
ওয়েলস জাতীয় দলের হয়ে ইয়োরাথ খেলেছেন ৫৯টি ম্যাচে, যার মধ্যে ৪২টি ম্যাচে অধিনায়কের ভূমিকায় ছিলেন। তিনি ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ারে ম্যানেজার ছিলেন। রোমানিয়ার সঙ্গে শেষ কোয়ালিফায়ারে ২-১ হারের আগে তিনি দলের নেতৃত্ব দিয়ে ইতিহাসের দরজা প্রায় খোলার কাছাকাছি পৌঁছে ছিলেন।
খেলোয়াড়ি জীবনে ইয়োরাথ বিভিন্ন ক্লাবে খেলে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। এছাড়া কোচিং ও ম্যানেজমেন্টেও তিনি অসাধারণ অবদান রেখেছেন। সোয়ানসি, ব্র্যাডফোর্ড, কার্ডিফ, লেবানন, শেফিল্ড ওয়েডনেজডে ও মারগেট ক্লাবগুলো তিনি পরিচালনা করেছেন। বিশেষ করে ১৯৮৮ সালে সোয়ানসিকে চতুর্থ ডিভিশন থেকে প্রোমোশন করানো এবং ওয়েলসকে দীর্ঘ সময় পর বিশ্বকাপের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া তাঁর বড় সাফল্য।
ইয়োরাথের ব্যক্তিগত জীবনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ছিলেন বিবিসি স্পোর্টসের উপস্থাপক গ্যাবি লোগানের পিতা। ১৯৮৫ সালের ভ্যালি প্যারেড অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনি ব্র্যাডফোর্ডের প্লেয়ার-কোচ ছিলেন, যেখানে ৫৬ জন ভক্ত নিহত হন এবং ২৭০ জন আহত হন। তাঁর চার সন্তান গ্যাবি, ড্যানিয়েল, লুইস ও জর্ডান। দুর্ভাগ্যবশত, ড্যানিয়েল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ১৫ বছর বয়সে প্রয়াত হন।
সন্তানরা একটি বিবৃতিতে বলেছেন:
“অনেকে তাঁকে ফুটবলের নায়ক হিসেবে দেখেছে, আমাদের কাছে তিনি ছিলেন বাবা; শান্ত, সদয় ও নম্র। আমাদের হৃদয় ভেঙেছে, তবে আমরা সান্ত্বনা পাই যে তিনি আমাদের ভাই ড্যানিয়েলের সঙ্গে পুনর্মিলিত হবেন।”
সামাজিক মাধ্যমে প্রাক্তন ব্র্যাডফোর্ড স্ট্রাইকার ডিন উইন্ডাস লিখেছেন:
“দুঃখজনক সংবাদ, মহান মানুষ ও ভদ্র ব্যক্তি। পরিবারকে আমার সমবেদনা।”
টেরি ইয়োরাথ কেবল একজন ফুটবলের নায়ক ছিলেন না; তিনি ছিলেন শান্ত, উদার ও প্রেমময় পিতা ও বন্ধু, যাঁর প্রভাব আজও ফুটবল এবং পরিবার জীবনের মধ্যে অম্লান। ফুটবল জগৎ তাঁর বিদায়ে শোকাহত হলেও, তাঁর জীবনের গল্প চিরকাল আমাদের অনুপ্রাণিত করবে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| জন্ম | ১৯৫০ (প্রায়) |
| মৃত্যু | ২০২৬, বয়স ৭৫ |
| পেশাদার ক্লাব | লিডস ইউনাইটেড, কোভেন্ট্রি সিটি, টটেনহ্যাম হটস্পার, ভ্যানকুভার হোয়াইটক্যাপস, ব্র্যাডফোর্ড সিটি, সোয়ানসি সিটি |
| লিডস ম্যাচ/গোল | ১৯৯ ম্যাচ, ১১ গোল |
| লিডস অর্জন | ১৯৭৪ ফার্স্ট ডিভিশন শিরোপা, ফা কাপ রানার্স-আপ, ইউরোপীয় কাপ/কাপ উইনার্স কাপ রানার্স-আপ |
| জাতীয় দল | ওয়েলস, ৫৯ ম্যাচ, ৪২ অধিনায়কত্ব |
| ম্যানেজার হিসেবে সাফল্য | ১৯৯৪ বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ার, সোয়ানসি প্রোমোশন ১৯৮৮, ওয়েলসকে বিশ্বকাপের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া |
| ব্যক্তিগত জীবন | চার সন্তান (গ্যাবি, ড্যানিয়েল, লুইস, জর্ডান), ১৯৮৫ ভ্যালি প্যারেড অগ্নিকাণ্ডে অংশগ্রহণ |