খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ছত্রছায়ায় পেশাদার ‘শ্যুটার’দের একের পর এক হত্যাকাণ্ড জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে অপরাধের আধিপত্য বিস্তারের লড়াই তীব্র হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) একাধিক জরুরি বৈঠক করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
সাম্প্রতিকতম হত্যাকাণ্ডটি ঘটে ফার্মগেটের তেজতুরী বাজারে, যেখানে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মোছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা পেশাদার কিলার গ্রুপের অংশ।
পুলিশ ও অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, শীর্ষ সন্ত্রাসীরা আড়ালে থেকে দেশজুড়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করছেন। সাম্প্রতিক কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া গেছে। উদাহরণস্বরূপ:
| তারিখ | স্থান | নিহত | হত্যাকারী / যোগসূত্র | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| ১০ নভেম্বর ২০২৫ | ঢাকা আদালত এলাকা | তারিক সাইফ মামুন | পেশাদার শ্যুটার দল | অপরাধ জগতের দ্বন্দ্বের কারণে |
| ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ | পুরানা পল্টন, কালভার্ট রোড | শরিফ ওসমান হাদিক | পেশাদার সন্ত্রাসী | রাজনৈতিক ও অপরাধ সংযোগ |
| ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ | চট্টগ্রাম | সারওয়ার হোসেন বাবলা | প্রতিপক্ষের শ্যুটাররা | ভোটের মাঠে আধিপত্য বিরোধ |
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর অন্তত ছয়জন শীর্ষ সন্ত্রাসী জামিনে মুক্তি পান। এদের মধ্যে আছেন সুইডেন আসলাম, হাজারীবাগের সানজিদুল ইসলাম (ইমন), মিরপুরের ‘কিলার আব্বাস’ আব্বাস আলী, মোহাম্মদপুরের ইমামুল হাসান হেলাল (পিচ্চি হেলাল), খন্দকার নাঈম আহমেদ (টিটন) ও খোরশেদ আলম (রাসু)। তারা এখন দেশের ভিতরে ও বাইরে থেকে অপরাধ জগৎ পরিচালনা করছেন।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। অনেক হত্যাকাণ্ডই অপরাধের আধিপত্য বিস্তার ও ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফল।” নিহতরা সাধারণত প্রতিপক্ষের টার্গেটে আনা হয়। উদাহরণস্বরূপ, ইমনের সহযোগী রনি মামুন হত্যাকাণ্ডের সার্বিক পরিকল্পনা নিয়েছিলেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি সতর্ক করে বলেন, “নির্বাচন ঘিরে কিছু রাজনৈতিক নেতা পেশাদার শ্যুটারদের ব্যবহার করছেন, যা দেশের আইন-শৃঙ্খলায় বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এর সঠিক প্রভাব নির্ধারণ করা এখনও কঠিন।”
গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে পুলিশ সদর দপ্তর উল্লেখ করেছে, দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শীর্ষ সন্ত্রাসীরা এবং তাদের পেশাদার সহায়করা নির্বাচন প্রভাবিত করতে আরও তৎপর হয়ে উঠতে পারে।