খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 29শে পৌষ ১৪৩২ | ১২ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা, যা সাম্প্রতিক জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠনের সিদ্ধান্ত থেকে উদ্ভূত। দলের এই নতুন রাজনৈতিক কৌশলের বিরুদ্ধে একের পর এক শীর্ষ ও মধ্যম সারির নেতারা পদত্যাগ করেছেন এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাদের ফেরাতে ব্যর্থ হচ্ছে। দলত্যাগী নেতারা স্পষ্ট অবস্থানে অনড়: জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন না হলে কোনো ভাবেই তারা ফিরে আসবেন না।
গতকাল পর্যন্ত সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা ও সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহসহ অন্তত ১৫ জন শীর্ষ ও মধ্যম সারির নেতা পদত্যাগ করেছেন। এছাড়া আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আরও ছয়জন প্রার্থী নিজেদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন।
সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন এবং যুগ্ম সদস্যসচিব নাহিদা সারোয়ার নিভা আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ না করলেও জামায়াতের সঙ্গে জোট ঘোষণার পর থেকে তারা দলীয় কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয়।
| পদত্যাগী নেতাদের তথ্য | অবস্থান ও মন্তব্য |
|---|---|
| তাসনিম জারা | সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব, পদত্যাগ করেছেন |
| খালেদ সাইফুল্লাহ | সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, পদত্যাগ করেছেন |
| সামান্থা শারমিন | সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় |
| নাহিদা সারোয়ার নিভা | যুগ্ম সদস্যসচিব, কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় |
| অন্যান্য ১১ জন | শীর্ষ ও মধ্যম সারির নেতা, পদত্যাগ করেছেন |
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দাবি করেছেন, দলত্যাগী নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি তাদের ফেরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে পদত্যাগী নেতারা এই প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ ও কৌশলগতভাবে সময়ক্ষেপণ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, নেতৃত্ব মূল আদর্শগত সংকট সমাধান করতে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি।
কিছু নেতার অভিযোগ, নির্বাচন ও সমর্থকদের বিভ্রান্তি রোধের জন্যই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে। সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, “আমাকে ফেরানোর জন্য কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি।”
নেতাদের একাংশ জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যোগদানের প্রক্রিয়াকে অগণতান্ত্রিক ও পূর্বপরিকল্পিত হিসেবে দেখছেন। একটি অভ্যন্তরীণ বৈঠকে প্রায় ৪০ জন সদস্য উপস্থিত থাকলেও, জোটের বিরোধিতা করা অনেকেই সেখানে ছিলেন না। উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখিয়ে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়।
সাবেক আইসিটি সেল প্রধান ফারহাদ আলম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, “জোটের প্রক্রিয়া দেখে আমি সঙ্গে সঙ্গে পদত্যাগ করেছি। দলের শীর্ষ নেতারা যোগাযোগ করেও ফেরার অনুরোধ করেছেন, তবে জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন না হলে আমি ফিরব না।”
দলীয় সূত্র জানায়, পদত্যাগী নেতাদের পুনর্বহাল নিয়ে একটি অভ্যন্তরীণ বৈঠক করার পরিকল্পনা ছিল। তবে বৈঠক হওয়ার আগেই বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তা বাতিল করতে হয়েছে। শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, ফেরার দরজা এখনও খোলা।
এনসিপি বিভিন্ন ইস্যুতে ইতোমধ্যেই অনেক নেতার বিচ্ছেদের সাক্ষী হয়ে এসেছে। এবারও জোট ঘোষণার কারণে দলীয় অস্থিতিশীলতা বাড়ার পাশাপাশি নেতাদের ফেরানোর প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়েছে।