খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও স্মার্ট করার লক্ষ্যে মেট্রোরেলের যাত্রীসেবায় যুক্ত হয়েছে এক নতুন মাত্রা। এখন থেকে যাত্রীরা তাঁদের হাতের স্মার্টফোন ব্যবহার করেই মেট্রোরেলের ‘র্যাপিড পাস’ বা ‘এমআরটি পাস’ রিচার্জ করতে পারবেন। সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) কার্যালয়ে এই বিশেষ মোবাইল অ্যাপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী শেখ মইনউদ্দিন। এই অ্যাপ চালুর ফলে এখন থেকে টিকিট কাউন্টারে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তি অনেকাংশে লাঘব হবে।
অ্যাপের বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহারকারী সুবিধা
ডিটিসিএ জানিয়েছে, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতেই এই অ্যাপটি প্রস্তুত করা হয়েছে। অ্যান্ড্রয়েড ভিত্তিক এই অ্যাপের মাধ্যমে যাত্রীরা ঘরে বসেই কার্ডের ব্যালেন্স টপ-আপ করতে পারবেন। এছাড়া অ্যাপটি ব্যবহার করে রিচার্জের ইতিহাস যাচাই, কার্ডের বর্তমান ব্যালেন্স দেখা এবং এনএফসি (NFC) সুবিধাসম্পন্ন ফোনে কার্ডটি স্পর্শ করার মাধ্যমেই তাৎক্ষণিক তথ্য জানা সম্ভব হবে। পেমেন্টের জন্য বিকাশ, রকেট ছাড়াও ভিসা, মাস্টারকার্ড ও আমেরিকান এক্সপ্রেসের মতো জনপ্রিয় মাধ্যমগুলো ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
মেট্রোরেলের অনলাইন রিচার্জ ও অ্যাপ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে সারণির মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিস্তারিত বিবরণ ও নিয়মাবলি |
|---|---|
| অ্যাপের নাম | র্যাপিড পাস (Rapid Pass) |
| প্লাটফর্ম | গুগল প্লে স্টোর (অ্যান্ড্রয়েড ভিত্তিক) |
| সর্বনিম্ন রিচার্জ | ১০০ টাকা |
| সর্বোচ্চ রিচার্জ | ৫,০০০ টাকা |
| পেমেন্ট গেটওয়ে | বিকাশ, রকেট, ভিসা, মাস্টারকার্ড, এএমইএক্স |
| ব্যালেন্স কার্যকর পদ্ধতি | রিচার্জের পর কার্ডটি ‘অ্যাড ভ্যালু’ মেশিনে ট্যাপ করতে হবে |
| সেবা চার্জ (বাতিলকরণ) | রিচার্জ বাতিল করলে ৫ শতাংশ ফি প্রযোজ্য (৭ দিনের মধ্যে) |
রিচার্জ করার পদ্ধতি
অনলাইনে রিচার্জ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ। প্রথমে গুগল প্লে স্টোর থেকে ‘র্যাপিড পাস’ অ্যাপটি ডাউনলোড করে নিতে হবে। এরপর ব্যবহারকারীকে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে বা সাইন-আপ করতে হবে। যারা ইতিমধ্যে র্যাপিড পাসের ওয়েবসাইটে নিবন্ধিত ছিলেন, তারা আগের লগইন তথ্য ব্যবহার করেই অ্যাপে প্রবেশ করতে পারবেন। লগইনের পর নিজের কার্ডটি অ্যাপে যুক্ত করলেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যালেন্স ও অন্যান্য তথ্য প্রদর্শন করবে। রিচার্জ সম্পন্ন হওয়ার পর ব্যবহারকারীর নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে একটি নিশ্চিতকরণ বার্তা (SMS) পাঠানো হবে।
সতর্কতা ও বিশেষ নির্দেশনা
ডিটিসিএ-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, অনলাইনে রিচার্জ করলেই সাথে সাথে তা কার্ডে যুক্ত হবে না। রিচার্জ সম্পন্ন করার পর যেকোনো মেট্রো স্টেশনে থাকা ‘অ্যাড ভ্যালু’ মেশিনে কার্ডটি ট্যাপ করতে হবে, তবেই রিচার্জকৃত অর্থ কার্ডের মূল ব্যালেন্সের সাথে যোগ হবে। এছাড়া প্রতিটি কার্ডে একবারে কেবল একটি ‘পেন্ডিং’ বা অপেক্ষমান রিচার্জ রাখা যাবে। যদি কেউ ভুলে ভুল কার্ডে রিচার্জ করেন, তবে সাত দিনের মধ্যে রিচার্জ বাতিলের আবেদন করা যাবে, তবে এক্ষেত্রে মোট টাকার ৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জ হিসেবে কেটে নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিটিসিএ-এর নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মশিউর রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে বাস ও অন্যান্য গণপরিবহনেও এই কার্ডের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ডিজিটাল এই অগ্রযাত্রা যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি সময় সাশ্রয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।