খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
মিয়ানমারের সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন নির্বাচনে দেশটির প্রভাবশালী জান্তাপন্থি রাজনৈতিক দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) সংসদের নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় দাবি করেছে। মঙ্গলবার দলটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ দাবি জানিয়েছে, যদিও আনুষ্ঠানিক ফল এখনও প্রকাশ করা হয়নি। এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে, তবে সে কর্মকর্তা নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।
গণতন্ত্র পর্যবেক্ষক সংস্থা ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন, মিয়ানমারের এই নির্বাচনের আয়োজন মূলত সেনাবাহিনীকে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতায় রাখার কৌশল। তারা বলছেন, নির্বাচনের পদ্ধতি “সাজানো” এবং জনগণের প্রকৃত ইচ্ছাকে প্রতিফলিত করছে না।
মিয়ানমার স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় সামরিক শাসনের আওতায় ছিল। ২০১০ সালে সংক্ষিপ্ত গণতান্ত্রিক পরিবর্তন আসলেও তা স্থায়ী হয়নি। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সেনাবাহিনী অভ্যুত্থান ঘটিয়ে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারকে উৎখাত করে, এবং দেশের গণতান্ত্রিক নেত্রীকে আটক করে। এর পর থেকে দেশটি গৃহযুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে পড়ে।
মিয়ানমারে এই নির্বাচনের প্রক্রিয়া তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশটির সেনাপ্রধানরা বলেছেন যে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। রোববার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপে ইউএসডিপি ১০০টির মধ্যে ৮৭টি আসনে জয়লাভ করেছে বলে দাবি করেছে। প্রথম ধাপের জয় এবং দ্বিতীয় ধাপের ফল মিলিয়ে দলটির নিম্নকক্ষে আসনসংখ্যা বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ১৭৬। নির্বাচিত আসন সংখ্যা ৩৩০, যা অর্ধেকের সামান্য বেশি। তৃতীয় ধাপের ভোট আগামী ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
| তথ্য | সংখ্যা | মন্তব্য |
|---|---|---|
| নিম্নকক্ষে মোট আসন | ৪৪০ | ২২০ জন নির্বাচিত, ১১০ সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত |
| নির্বাচিত আসন (২ ধাপের ফল) | ১৭৬ | ইউএসডিপি প্রাপ্ত |
| তৃতীয় ধাপের ভোট | ২৫ জানুয়ারি | ফল এখনও প্রকাশ হয়নি |
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক টম অ্যান্ড্রুজ জানিয়েছেন, জান্তাপন্থিরা নির্বাচনের ফলাফল কৌশলগতভাবে সাজিয়েছে যাতে তাদের ক্ষমতা ও সামরিক আধিপত্য নিশ্চিত হয়।
আগামী মার্চে মিয়ানমারের সংসদ অধিবেশন শুরু হবে, যেখানে নিম্ন ও উচ্চকক্ষের সদস্যরা যৌথভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবেন। দেশটির জান্তা প্রধান মিন অং হ্লেইং শীর্ষ সেনা পদ ত্যাগ করে বেসামরিক পদ গ্রহণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউএসডিপির রাজনৈতিক নেতৃত্ব মূলত অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের দ্বারা গঠিত হওয়ায় দলটি সেনা বাহিনীর রাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত।
মোটকথা, মিয়ানমারের সাম্প্রতিক নির্বাচনের পরিস্থিতি দেশের দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক প্রচেষ্টাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাবে বলে সতর্ক করছেন।