খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে প্লাস্টিকমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এক অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ‘প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিন, চারাগাছ বুঝে নিন’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান ও উপাত্ত বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রদল কর্মী ইফরাত আমিন (অক্ষর) এক ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করছেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকা প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ এবং সবুজায়নের এক মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে।
গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে। এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের আওতায় যেকোনো শিক্ষার্থী ১০টি পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল বা সমপরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিলে তার বিনিময়ে একটি ফলজ, বনজ বা ভেষজ চারাগাছ উপহার পাচ্ছেন।
বুধবার বিকেল পর্যন্ত পরিচালিত এই অভিযানে সংগৃহীত তথ্যের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিবরণ | পরিমাণ/তথ্য |
| গৃহীত প্লাস্টিক বর্জ্য | ৩,০০০+ টি বোতল ও প্যাকেট |
| বিতরণকৃত চারাগাছ | ৩০০টি |
| চারাগাছের ধরন | ফলজ, বনজ ও ভেষজ |
| কর্মসূচির ব্যাপ্তি | ৩ দিন (সোমবার থেকে বুধবার) |
| উদ্যোক্তা | ইফরাত আমিন (পরিসংখ্যান ও উপাত্ত বিজ্ঞান বিভাগ) |
উদ্যোক্তা ইফরাত আমিন জানান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত সচেতনতা সবচেয়ে জরুরি। প্রতিদিন ক্যাম্পাসে চিপসের প্যাকেট, পানির বোতল ও ওয়ান-টাইম প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার বাড়ছে, যা মাটির উর্বরতা নষ্ট করার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরতেই তিনি নিজের উদ্যোগে এই ‘বিনিময় প্রথা’ চালু করেছেন। গত তিন দিনে প্রায় তিন হাজার প্লাস্টিক সামগ্রী সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে, যা অন্যথায় ক্যাম্পাসের ড্রেন বা ঝোপঝাড়ে মিশে পরিবেশের ক্ষতি করত।
এই প্রশংসনীয় উদ্যোগের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ও জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিব বলেন, “জাহাঙ্গীরনগর ক্যাম্পাস আমাদের গর্ব। কিন্তু যত্রতত্র আবর্জনা ফেলায় এর সৌন্দর্য ম্লান হচ্ছে। প্লাস্টিকের বিনিময়ে গাছ বিতরণের এই ধারণাটি কেবল পরিবেশ পরিষ্কার করছে না, বরং শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণেও উৎসাহিত করছে।”
পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, “প্লাস্টিক বর্জ্য প্রকৃতিতে মিশে যেতে শত শত বছর সময় নেয়, যা পরিবেশের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। একজন শিক্ষার্থীর নিজ উদ্যোগে এমন সচেতনতামূলক কাজ সত্যিই অনুকরণীয়। এ ধরনের কার্যক্রম ক্যাম্পাসকে প্লাস্টিকমুক্ত রাখতে দীর্ঘমেয়াদে ভূমিকা রাখবে।”
উদ্যোক্তারা আশা করছেন, এই প্রতীকী উদ্যোগের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের ক্যাফেটেরিয়া, হল ও বোটানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন এলাকাগুলো প্লাস্টিক দূষণ থেকে মুক্ত হবে। আগামীতে আরও বৃহৎ পরিসরে এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় এই ধরনের কর্মসূচি পরিচালনা করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের, যাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পরিবেশ সংরক্ষণে একটি রোল মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।
আপনি কি এই কর্মসূচির আওতায় কোন ধরনের চারাগাছ বেশি বিতরণ করা হয়েছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত