খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশে তেলজাতীয় গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যার প্রভাবে ভোক্তা বাজারে দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশজুড়ে গৃহস্থালি ও ব্যবসায়িক ব্যবহারকারীরা এখন প্রতিদিনের রান্না ও অন্যান্য কাজে প্রভাবিত হচ্ছেন। প্রতিবছর বাংলাদেশের এলপিজি চাহিদা গড়ে ১০ শতাংশের বেশি বেড়ে থাকে এবং এ বৃদ্ধি মেটাতে সাধারণত আমদানি বাড়ানো হতো। কিন্তু ২০২৪ সালে পরিস্থিতি বিপরীতভাবে বদলায়, ফলে বছরের শেষ প্রান্তে বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (BERC) তথ্যানুসারে, এলপিজি আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৪ সালে দেশের এলপিজি আমদানি পূর্ববছরের তুলনায় প্রায় ১৫০,০০০ টন কমে গেছে, যা সরবরাহে ঘাটতি আরও বাড়িয়েছে।
সর্বশেষ তিন বছরের এলপিজি আমদানি (টন)
| বছর | আমদানি পরিমাণ (টন) | পরিবর্তন (টন) |
|---|---|---|
| ২০২৩ | ১,২৭৫,০০০ | – |
| ২০২৪ | ১,৬১০,০০০ | +৩৩৬,০০০ |
| ২০২৫ | ১,৪৬৫,০০০ | -১৪৫,০০০ |
BERC অনুসারে, বর্তমানে দেশে এলপিজি সেক্টরে ৫২টি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্সপ্রাপ্ত। এর মধ্যে ৩২টির নিজস্ব সিলিন্ডার পূর্ণকরণ সুবিধা আছে, এবং ২৩টির আমদানি ক্ষমতা রয়েছে। তবে ২০২৪ সালে নিয়মিত আমদানি চালিয়েছে মাত্র ৮টি প্রতিষ্ঠান, এবং বছরের শুরুতে সক্রিয় কিছু আমদানিকারক কার্যক্রম বন্ধ করলে সংকট আরও তীব্র হয়।
BERC-এর এক কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, “মাসিক আমদানি তথ্য সরকারের কাছে ছিল, কিন্তু সময়মতো অনুমোদন না দেয়ায় সংকট এড়ানো সম্ভব হয়নি।” এ পরিস্থিতিতে এনার্জি ডিভিশন এলসির প্রাধান্য বৃদ্ধি ও আমদানির অনুমতি সম্প্রসারণের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।
প্রধান শহরগুলোর বর্তমান খুচরা দাম
| শহর/জেলা | বেস মূল্য (টাকা) | বিক্রয় মূল্য (টাকা) | বাজার পরিস্থিতি |
|---|---|---|---|
| ঢাকা-মোহাম্মদপুর | ১,৩০৬ | ২,৩০০ | সিলিন্ডার খুবই কম পাওয়া যায় |
| চট্টগ্রাম-আগ্রাবাধ | ১,৩০৬ | ২,০০০ | সীমিত সরবরাহ, দাম উর্ধ্বগতি |
| বরিশাল-নিউ মার্কেট | ১,৩০৬ | ১,৬০০ | খালি সিলিন্ডার অতি মূল্যে বিক্রি |
| রাজশাহী-সাধুর মোর | ১,৩০৬ | – | সিলিন্ডার একেবারেই নেই |
BERC চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, “সরবরাহ চেইনে একাধিক ব্যাঘাত ঘটেছে। নভেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত ১৭০টি জাহাজ বিলম্বিত হয়েছিল, ডিসেম্বরেও ২৯টি জাহাজ সমস্যায় পড়ে। ইরান থেকে সরবরাহ বন্ধ, এবং চীনের মতো বড় ক্রেতারা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়িয়েছে।”
এদিকে, এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশ (LOAB) সভাপতি আমিরুল হক অনুমোদন বিলম্বের জন্য সংকটের জন্য কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, পাঁচ কোম্পানির একটি কনসোর্টিয়াম একটি বছর আগে আমদানি বাড়ানোর অনুমতি চেয়েছিল, কিন্তু সময়মতো নতুন প্ল্যান্ট লাইসেন্স ও অনুমোদন না পাওয়া সংকট তীব্র করেছে।
বর্তমানে দেশে households ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যুৎ বা মেরিলের চুলার দিকে বেশি নির্ভর করছেন। রিটেইলাররা জানাচ্ছেন, সিলিন্ডার পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে, ফলে ভোক্তারা মারাত্মক অসুবিধায় পড়ছেন। তৎপরতার স্বল্পতা না হলে বাজার পরিস্থিতি দ্রুত স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা কম।