খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে মাঘ ১৪৩২ | ১৭ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
অ্যানফিল্ডের লাল গ্যালারিতে কি তবে একটি সোনালি যুগের শেষ ঘণ্টা বেজে উঠতে চলেছে? গত কয়েক মৌসুম ধরে যে লিভারপুলকে চিনে এসেছে ফুটবলবিশ্ব, আগামী মৌসুমে সেই চিত্র বদলে যাওয়ার সম্ভাবনাই এখন বেশি আলোচিত। ক্লাবটির সাবেক স্ট্রাইকার স্ট্যান কলিমোরের মন্তব্য নতুন করে এই আলোচনায় ঘি ঢেলেছে। তাঁর স্পষ্ট ধারণা—আগামী গ্রীষ্মেই মোহাম্মদ সালাহ ও ভার্জিল ফন ডাইক, অন্তত একজন, লিভারপুল ছাড়তে পারেন।
বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, এই দুজন তারকাই খুব সম্প্রতি ২০২৭ সাল পর্যন্ত নতুন চুক্তিতে সই করেছেন। স্বাভাবিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, আরও কয়েক বছর এই দুই স্তম্ভকে ঘিরেই সাজানো হবে লিভারপুলের পরিকল্পনা। কিন্তু কোচ আর্নে স্লট দায়িত্ব নেওয়ার পর ‘লিভারপুল ২.০’ গড়ার আলোচনা শুরু হয়েছে। নতুন কোচের দৃষ্টিভঙ্গি, কৌশল ও দল পুনর্গঠনের ভাবনা—সব মিলিয়ে অভিজ্ঞ তারকাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
গত মৌসুমে ক্লাবটি ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করে। তরুণ ও প্রতিভাবান ফুটবলারদের দলে টেনে আনা হয়, যাদের ঘিরে আগামী কয়েক বছর দল সাজানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। যদিও পারফরম্যান্স ও ইনজুরির কারণে প্রত্যাশার পুরোটা এখনো পূরণ হয়নি, তবু বোর্ড ও কোচিং স্টাফের আস্থা তরুণদের দিকেই বেশি।
নিচের ছকে লিভারপুলের সাম্প্রতিক বড় বিনিয়োগ ও অভিজ্ঞ তারকাদের অবস্থান সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| ফুটবলার | বয়স (২০২6) | ভূমিকা | চুক্তির মেয়াদ | ক্লাবের পরিকল্পনায় অবস্থান |
|---|---|---|---|---|
| মোহাম্মদ সালাহ | ৩৩ | উইঙ্গার/ফরোয়ার্ড | ২০২৭ | অনিশ্চিত |
| ভার্জিল ফন ডাইক | ৩৫ | সেন্টার-ব্যাক | ২০২৭ | স্বল্পমেয়াদি |
| আলেক্সান্ডার ইসাক | ২৬ | স্ট্রাইকার | দীর্ঘমেয়াদি | ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কেন্দ্র |
| ফ্লোরিয়ান ভির্টৎস | ২৩ | অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার | দীর্ঘমেয়াদি | ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কেন্দ্র |
কলিমোরের মতে, আর্নে স্লট যদি সত্যিই নতুন যুগের সূচনা করতে চান, তবে বড় সিদ্ধান্ত নিতেই হবে। তাঁর ভাষায়, নতুনদের জায়গা করে দিতে গেলে পুরোনোদের কাউকে না কাউকে বিদায় জানাতে হয়। এখানেই সালাহ ও ফন ডাইকের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে।
সালাহকে ঘিরে আলোচনা আরও গভীর। লিভারপুলের ইতিহাসে কেনি ডালগ্লিশ, ইয়ান রাশ কিংবা স্টিভেন জেরার্ডের পাশে তাঁর নাম উচ্চারিত হয় সাফল্যের কারণেই। কিন্তু নতুন তারকাদের আগমনে যে উন্মাদনা তৈরি হচ্ছে, তাতে একজন বৈশ্বিক সুপারস্টার হিসেবে সালাহ নিজেকে কিছুটা উপেক্ষিত ভাবতেই পারেন—এমনটাই মনে করেন কলিমোর। তাঁর মতে, অনেক সমর্থক শুধু সালাহর জন্যই লিভারপুলকে ভালোবাসে, কিন্তু ক্লাবের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ আবেগের চেয়েও বড়।
অন্যদিকে, বয়সের ভারে ফন ডাইককে হয়তো আরও এক মৌসুম রাখা হতে পারে রক্ষণভাগের অভিজ্ঞতার জন্য। তবে সালাহর ক্ষেত্রে কলিমোর বেশ নিশ্চিত—আগামী গ্রীষ্মেই তাঁর বিদায় ঘটতে পারে।
সব মিলিয়ে প্রশ্নটা এখন একটাই—লিভারপুলের সোনালি অধ্যায়ের শেষের সূচনা কি সালাহর হাত ধরেই হতে যাচ্ছে, নাকি আরও একবার ইতিহাস বদলে দেবেন এই মিশরীয় রাজা? অ্যানফিল্ড আপাতত সেই উত্তরের অপেক্ষায়।