খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 6শে মাঘ ১৪৩২ | ১৯ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহনাবাদি অভিযোগ করেছেন, ইরানজুড়ে চলমান আন্দোলনের সময় স্টারলিংকের মতো অত্যাধুনিক স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের অসন্তোষকে পুঁজি করে বিদেশি শক্তির মদদে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং এরই ধারাবাহিকতায় দেশজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এসব কারণেই সাম্প্রতিক বিক্ষোভে প্রাণহানির ঘটনা বেড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সোমবার সকালে ঢাকায় অবস্থিত ইরান দূতাবাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহনাবাদি। ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক আন্দোলন নিয়ে ব্যাখ্যা দিতেই দূতাবাসের পক্ষ থেকে সীমিতসংখ্যক গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে এই মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়।
রাষ্ট্রদূত বলেন, “ইরানে প্রথমে সশস্ত্র বিদ্রোহীরা নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এরপর সেই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো এবং তাদের মিত্ররা ব্যাপক প্রচারণা শুরু করে। পুরো প্রক্রিয়াটিই হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা, কৌশলগত বুদ্ধিমত্তা ও পরামর্শের মাধ্যমে।” তাঁর ভাষায়, আধুনিক প্রযুক্তি ও স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে ইরানের ভেতরে বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যা সাধারণ জনগণের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে।
এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত স্টারলিংকের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংকের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করে বিদেশি শক্তিগুলো ইরানের ভেতরে প্রচারণা চালাতে সক্ষম হয়েছে। স্টারলিংকের মূল প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স, যার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক—বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি উদ্যোক্তা। রাষ্ট্রদূতের দাবি, এই সেবা ইরানের প্রচলিত যোগাযোগব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে।
ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা ও সম্ভাব্য ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে তিনি বলেন, ইরান বর্তমানে বিদেশি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে চালানো প্রোপাগান্ডা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে এবং ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হচ্ছে।
আন্দোলনে মোট কতজন নিহত হয়েছেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা দিতে পারেননি। তবে তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ইরান সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানি রাষ্ট্রদূতের এই বক্তব্য শুধু ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ব্যাখ্যা নয়, বরং আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও আধুনিক প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিতে পারে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| বক্তা | জলিল রহিমি জাহনাবাদি |
| পদবি | ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত |
| অভিযোগের মূল বিষয় | স্টারলিংক ব্যবহার করে অপতথ্য ছড়ানো |
| সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি | স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট |
| স্টারলিংকের মালিকানা | স্পেসএক্স |
| স্পেসএক্সের প্রধান | ইলন মাস্ক |
| বক্তব্যের স্থান | ইরান দূতাবাস, ঢাকা |
| আন্দোলন প্রসঙ্গ | সহিংসতা ও প্রাণহানি |
এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান আবারও আন্তর্জাতিক পরিসরে দাবি করল যে, তাদের দেশের চলমান অস্থিরতার পেছনে শুধু অভ্যন্তরীণ কারণ নয়, বরং বৈদেশিক হস্তক্ষেপ ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রচারণাও বড় ভূমিকা রেখেছে।