খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয় কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে দেশের সামগ্রিক ব্যবসায়িক ও বিনোদনমূলক খাতের জন্য নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের সকল দোকানপাট, শপিং মল এবং বিপণিবিতানসমূহ পূর্বের ন্যায় পুনরায় সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। একই সাথে বিজ্ঞাপনী প্রচারণায় ব্যবহৃত সব ধরনের বিলবোর্ডের আলোকসজ্জাও সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের এই নতুন সিদ্ধান্তের আওতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান ও অনুষ্ঠিতব্য সব ধরনের মেলা, বাণিজ্য মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সমাপ্ত করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়-২ শাখা থেকে এই সংক্রান্ত একটি দাপ্তরিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই আদেশটি মাঠ পর্যায়ে কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য দেশের সকল সিটি করপোরেশনের মেয়র ও প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধসহ আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের জারিকৃত আদেশে পূর্ববর্তী প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে বলা হয় যে, পূর্বে প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী জাতীয় স্বার্থে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দেশের সকল শপিং মল, মার্কেট ও দোকানপাট সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর ছিল। তবে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাধারণ জনগণের কেনাকাটার সুবিধার্থে এবং ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যিক দিক বিবেচনা করে সাময়িকভাবে সেই সময়সীমা বৃদ্ধি করে রাত ১০টা পর্যন্ত পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল।
নতুন নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, পবিত্র ঈদ উপলক্ষে প্রদত্ত বিশেষ সুবিধার নির্ধারিত সময়সীমা ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। এই কারণে ১ জুন থেকে আবারও সরকারের পূর্বের মূল সিদ্ধান্তটি পুনর্বহাল করা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে রাত ১০টার পরিবর্তে দেশের সকল বিপণিবিতান ও দোকানপাটের দৈনন্দিন বাণিজ্যিক কার্যক্রম সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
আদেশে আরও উল্লেখ করা হয় যে, বিদ্যুৎ ব্যবহারে সর্বোচ্চ সাশ্রয় নিশ্চিত করার স্বার্থে ব্যবসায়িক বিলবোর্ডের বাতিও সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে নিভিয়ে ফেলতে হবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত মেলা, বাণিজ্য মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও এই একই সময়সীমা কঠোরভাবে প্রতিপালন করতে হবে। বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সকল প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে এই রাষ্ট্রীয় নির্দেশনাটি মাঠ পর্যায়ে যথাযথভাবে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক তদারকি নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে।
সরকার কর্তৃক ১ জুন থেকে কার্যকর হওয়া বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী নির্দেশনার মূল বিষয়সমূহ নিচে সারণির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| সেবামূলক বা ব্যবসায়িক খাতের বিবরণ | পূর্ববর্তী বর্ধিত সময়সীমা (ঈদ উপলক্ষে) | বর্তমান পুনর্বহালকৃত সময়সীমা (১ জুন থেকে কার্যকর) | প্রশাসনিক তদারকি কর্তৃপক্ষ |
| বিপণিবিতান, শপিং মল ও দোকানপাট | রাত ১০টা পর্যন্ত | সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ | সিটি করপোরেশনের মেয়র ও প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক |
| সব ধরনের বিলবোর্ডের আলোকসজ্জা | কোনো নির্দিষ্ট কড়াকড়ি ছিল না | সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ | সিটি করপোরেশনের মেয়র ও প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক |
| চলমান ও অনুষ্ঠিতব্য মেলা ও বাণিজ্য মেলা | নির্দিষ্ট সময়সীমা শিথিল ছিল | সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সমাপ্তি | সিটি করপোরেশনের মেয়র ও প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক |
| সব ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান | নির্দিষ্ট সময়সীমা শিথিল ছিল | সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সমাপ্তি | সিটি করপোরেশনের মেয়র ও প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক |
বিদ্যুৎ সাশ্রয় সংক্রান্ত সরকারের এই নীতিগত সিদ্ধান্তটি মাঠ পর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে স্থানীয় প্রশাসনকে বিশেষ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:
আদেশের তাৎক্ষণিক কার্যকারিতা: ১ জুন থেকে এই আদেশটি কার্যকর করা হয়েছে, যার ফলে পূর্বের শিথিলকৃত সময়সীমা সম্পূর্ণ বাতিল বলে গণ্য হবে।
সমন্বিত তদারকি ব্যবস্থা: সিটি করপোরেশনের মেয়র, প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের স্ব-স্ব এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে নিয়মিত তদারকি করতে হবে।
বিনোদনের সময়সীমা নিয়ন্ত্রণ: ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সামাজিক বিনোদনমূলক খাত যেমন মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকেও এই সাশ্রয়ী নীতিমালার আওতাভুক্ত করা হয়েছে।