খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 5শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ১৯ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই মাঠে লুটিয়ে পড়লেন হামজা চৌধুরী। চারদিকে তখন উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ছেন সতীর্থরা—সোহেল রানা, তপু বর্মণ এবং বাকি দল। কারণটি শুধু একটি ম্যাচ জয়ের নয়; বরং ২২ বছরের বেদনার অবসান। দীর্ঘ সময় পর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারতকে হারিয়ে ইতিহাস নতুন করে লিখেছে বাংলাদেশ জাতীয় দল, আর সেই সুখবর এনে দিয়েছেন তরুণ ফরোয়ার্ড শেখ মোরসালিন, যার একমাত্র গোলেই এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে গুরুত্বপূর্ণ ১–০ ব্যবধানের জয় পায় স্বাগতিকরা।
এই জয়ে পাঁচ ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ পয়েন্টে, যেখানে সমান ম্যাচে দুই ড্র নিয়ে ভারতের পয়েন্ট মাত্র ২। অথচ পুরো বাছাইপর্বজুড়ে দল বারবার এগিয়ে গেলেও জয় আসছিল না। শিলংয়ে র্যাঙ্কিংয়ে অনেক এগিয়ে থাকা ভারতের বিপক্ষে গোল করে ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ। ঢাকায় সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে গোলরক্ষক মিতুল মারমার ভুলে হেরেছে ২–১ ব্যবধানে। হংকংয়ের বিপক্ষে জেতার মতো সুযোগ তৈরি করেও জয় হাতছাড়া হয়। সেই সব হতাশার ভিড়ে মোরসালিনের গোল যেন নতুন আলো।
দিনের ম্যাচে স্প্যানিশ কোচ কাবরেরা একাদশে আনেন দুটি পরিবর্তন। বেঞ্চে রাখেন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াকে, জায়গা দেন শেখ মোরসালিনকে। আর জুনিয়র সোহেল রানার স্থলে শমিত সোম মাঠে নামেন। শুরু থেকেই বাংলাদেশ রক্ষণাত্মক কৌশল নেয়। ভারত আক্রমণে উঠতে থাকলেও ১১তম মিনিটে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল পায় বাংলাদেশ—রাকিব হোসেনের কাটব্যাক থেকে ডিফেন্ডার আকাশ মিশ্রাকে পেছনে ফেলে দুর্দান্ত শটে গোলরক্ষক গুরপ্রিতকে পরাস্ত করেন মোরসালিন।
গোলের পর মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ নেয় সোহেল রানা ও শমিত সোম। বারবার উইং দিয়ে আক্রমণ গড়ে তোলে বাংলাদেশ, যদিও ব্যবধান বাড়ানো যায়নি। ৩০ মিনিটে ভয়াবহ ব্যাকপাসে বিপদে পড়লেও হামজা চৌধুরী অসাধারণ ক্লিয়ার করে দলকে রক্ষা করেন।
প্রথমার্ধে তপু বর্মণ ও ভারতের বিক্রমের মধ্যে সংঘর্ষ উত্তেজনা ছড়ায় দুই শিবিরে, তবে রেফারি হলুদ কার্ড দেখিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন। বিরতির পর ভারত কিছুটা সংগঠিত হয়ে ফিরে আসে এবং কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে, তবে শেষ পর্যন্ত তপু ও শাকিলদের রক্ষণদেয়াল ভাঙতে ব্যর্থ হয়।
৭০ মিনিটে কাবরেরা পরিবর্তন আনেন, মোরসালিনের জায়গায় নামান শাহারিয়ার ইমনকে। শেষ মুহূর্তে ভারত আক্রমণ বাড়ালেও বাংলাদেশের রক্ষণ দৃঢ়ভাবে তা ঠেকিয়ে দেয়। যোগ করা সময়ে দু’পক্ষই সুযোগ পেলেও গোলের দেখা হয়নি। শেষ পর্যন্ত ১–০ ফল নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ—ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে।
এ জয় শুধু একটি ম্যাচজয় নয়; বরং আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারের মাইলফলক। ২০০৩ সালে কাঞ্চন ও মতিউর মুন্নার গোলে ভারতের বিরুদ্ধে জয়ের পর দীর্ঘ দুই দশকের অপেক্ষার অবসান হলো শেখ মোরসালিনের নৈপুণ্যে।