খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 7শে মাঘ ১৪৩২ | ২০ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশে ২০২৫ সালে অপরাধের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইকরণ, ডাকাতিসহ সশস্ত্র দস্যুতা এবং অপহরণের ঘটনা আগের বছরের তুলনায় ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি কেবলমাত্র পরিসংখ্যানগত বৃদ্ধি নয়, বরং সাধারণ নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবন, চলাচল এবং নিরাপত্তা অনুভূতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। রাস্তাঘাটে হামলা, বাড়িতে চুরি এবং হেলাফেলা ডাকাতি সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে দৃশ্যমান হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।
একটি তাজা ঘটনা ঘটেছে ২৪ জানুয়ারি ২০২৫-এ বনানী এলাকায়। প্রাইভেট কোম্পানির কর্মী এবং মোটরসাইকেল রাইড-শেয়ারিং সার্ভিসের চালক কাজী মোহাম্মদ এ. হাদিদকে রাস্তায় ছিনতাই করা হয়। পুলিশ রিপোর্ট অনুযায়ী, যাত্রী নামানোর পর বিশ্রামের জন্য তিনি একটি খোলা এলাকায় দাঁড়ান। চারজন দুষ্কৃতী তাকে ঘিরে ধরে ছুরি দেখিয়ে ভয় দেখায়, মোবাইল ফোন ও ওয়ালেট চুরি করে এবং শারীরিকভাবে আহত করে।
হাদিদ “প্রথম আলো”-কে জানিয়েছেন, “আমি অর্থ ও কাজ হারালাম, শারীরিকভাবে আহত হলাম। মোবাইল ও মোটরসাইকেল সংক্রান্ত নথিপত্র পুনরুদ্ধারে অনেক সময় ও খরচ হয়েছে। এখনো আমি বেকার।” সরকারি সহায়তায় তার ফোন উদ্ধার হলেও, ওয়ালেট দুই দুষ্কৃতী নিয়ে পালিয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া ও আদালতের খরচ তার কষ্ট আরও বাড়িয়েছে।
সরকারি পুলিশ পরিসংখ্যানও এই বৃদ্ধির প্রমাণ দেয়:
| অপরাধের ধরন | ২০২৪ সালের ঘটনা | ২০২৫ সালের ঘটনা | বৃদ্ধি (%) |
|---|---|---|---|
| ছিনতাইকরণ | ১,৪১২ | ১,৯৩৫ | ৩৭% |
| ডাকাতি | ৪৯০ | ৭০২ | ৪৩% |
| চুরি | ৮,৬২২ | ৯,৬৭২ | ১২% |
| অপহরণ | ৬৪৪ | ১,১০১ | ৭১% |
| মোট | ১১,১৬৮ | ১৩,৪১০ | ১৬.৫% |
বিশেষভাবে, ডাকাতি ও ছিনতাইকরণের সংযুক্ত ঘটনা ৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে অনেক ভুক্তভোগী প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অভিযোগ দাখিল করতে নারাজ থাকেন—যা দীর্ঘদিন ধরে একটি চলমান সমস্যা।
পুলিশ সদর দফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক এইচ.এম. শাহাদাত হোসেন উল্লেখ করেছেন, “যদিও রিপোর্টকৃত ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, সামগ্রিক অপরাধের মাত্রা গত ১৫–২০ বছরে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। রিপোর্ট বৃদ্ধির কারণের মধ্যে streamlined অভিযোগ প্রক্রিয়া ও পূর্বের ঘটনার সংমিশ্রণ রয়েছে।”
জনসাধারণের মনোভাবও উদ্বেগজনক। কিমেকার্স কনসালটিংয়ের একটি জরিপে দেখা গেছে, ৬০ শতাংশ মানুষ সরকারী আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা অপর্যাপ্ত মনে করেন, শুধুমাত্র ৩৯ শতাংশ কার্যকর মনে করেছেন। ২০২৫ সালে “জনতার সন্ত্রাস” ঘটনায় অন্তত ১৯৭ জন নিহত হয়েছে, যা ২০২৪ সালের ১২৮ জনের তুলনায় বেশি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক রেজাউল করিম সোহাগ সতর্ক করেছেন যে, অভ্যাসবশত অপরাধীরা আইন প্রয়োগে ফাঁকফোকর ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে। তিনি বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি “অপরিচালনীয়” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
রাস্তা অপরাধ, অপহরণ, জনসাধারণে সন্ত্রাস ও পুলিশের উপর হামলার বৃদ্ধি জননিরাপত্তা পুনঃস্থাপনের জন্য কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করছে।