খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬
ঢাকার মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের প্যারিস রোডে অবস্থিত ছয় তলা বিশিষ্ট নিউ ডিএনসিসি মার্কেটটি দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়দের কাছে এটি পরিচিত ‘ভূতুড়ে মার্কেট’ নামে। রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত ও প্রাণবন্ত এলাকা হলেও নির্মাণ অসমাপ্ত এই কংক্রিটের কাঠামো অন্ধকারে জনমানসে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভবনটি এখন মাদক ও অপরাধ কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, দিন-রাত এই মার্কেটের নিচতলায় মাদকসেবী এবং জুয়াখেলোয়াড়রা জমায়েত হয়। ভাঙা দেয়াল, খসে পড়া পলেস্তারা, শ্যাওলার স্তর, এবং ভেতরে ছড়িয়ে থাকা ফেনসিডিলের বোতল, এসব ভবনটিকে সত্যিকারের ভয়ঙ্কর রূপ দিয়েছে। মার্কেটের পশ্চিম পাশের কিছু অংশ দখল করে তৈরি হয়েছে ছোট বস্তি। রিকশা ও ভ্যান রাখা হয়েছে ভবনের নিচতলায়, যা দুর্গন্ধ এবং অন্ধকারে আরও ভয়ংকর মনে হচ্ছে।
সম্প্রতি এখানে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় নগর ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা নতুন করে সামনে এসেছে। পুলিশ জানায়, গত ৫ বছরে এই মার্কেট থেকে অন্তত আটটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর জাহান বলেন, “১৬ জানুয়ারি রাতে সুমন নামে এক ব্যক্তির লাশ মার্কেটের নিচতলা থেকে উদ্ধার করা হয়। মৃতদেহে মাথায় জখমের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। আমরা সিটি করপোরেশনকে দ্রুত মার্কেট চালু করার জন্য চিঠি পাঠাব।”
১৯৯৬ সালে এই মার্কেটের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। সরকারি তৎকালীন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে ২,৩৬৩টি দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে সরকারের পরিবর্তন, মেয়র বদল ও সিটি করপোরেশন বিভক্তির কারণে কাজ অসমাপ্ত থেকে যায়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খালেক এন্টারপ্রাইজও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়।
নিচের টেবিলটি মার্কেট সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরেছে:
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| মার্কেটের নাম | নিউ ডিএনসিসি মার্কেট |
| অবস্থান | প্যারিস রোড, মিরপুর ১১ নম্বর সেকশন, ঢাকা |
| তলার সংখ্যা | ৬ তলা |
| জমির আকার | ২ একর |
| নির্মাণকাল | ১৯৯৬ থেকে শুরু |
| ব্যয় | ২৫ কোটি টাকা (প্রায়) |
| বরাদ্দকৃত দোকান | ২,৩৬৩টি |
| উদ্ধারকৃত লাশ | গত ৫ বছরে ৮টি |
| বর্তমান অবস্থা | পরিত্যক্ত, অপরাধ ও মাদকাচ্ছন্ন কেন্দ্র |
স্থানীয়রা বলছেন, মার্কেট নির্মাণ না হওয়ায় ভবনটি বিভিন্ন অপরাধী কর্মকাণ্ডের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মাদকসেবী, জুয়াখেলোয়াড় ও ছিনতাইকারীদের নেশার ও পরিকল্পনার কেন্দ্র হিসেবে ভবনটি এখন পুরোপুরি অরক্ষিত।
নগরবাসী ও ব্যবসায়ী উভয়ই আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত উদ্যোগ নেবে এই মার্কেট পুনরায় চালু ও নিরাপদ করার জন্য, যাতে শহরের প্রাণকেন্দ্রে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।