খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ ব্যাংক একটি নতুন ব্যাংক পুনর্গঠন ও সমাধান তহবিল (BRRF) গঠন করতে যাচ্ছে, যার লক্ষ্য দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা শক্তিশালী করা এবং সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে পুনর্গঠনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করা। এই তহবিলের মাধ্যমে সরকারকে সরাসরি করদাতার অর্থ ব্যবহার না করে ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন সম্ভব হবে। তহবিলটির লক্ষ্য আয়সীমা প্রায় ৪০,০০০ কোটি টাকা, যা আগামী কয়েক বছরে দেশে ব্যাংকিং সেক্টরে আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
বাংলাদেশের এই উদ্যোগটি ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ECB) সমাধান কাঠামো থেকে অনুপ্রাণিত। সেখানে ব্যাংকগুলো তাদের আমানতের একটি অংশ একটি বিশেষ তহবিলে জমা রাখে। বাংলাদেশে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বার্ষিক ০.২৫% প্রিমিয়াম দেবে—যা প্রতি ১০০ টাকায় ২৫ পয়সা। এটি বর্তমান ০.০৭% আমানত বীমা প্রিমিয়ামের চেয়ে বেশি, এবং তহবিলটি পরবর্তী বছরগুলিতে ৩০,০০০–৪০,০০০ কোটি টাকা জমা করতে সক্ষম হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ. মানসুর বলেন,
“ব্যাংক সমাধান একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আমরা একটি বিশেষ ব্যাংক রেজলিউশন বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেছি, যা দুর্বলতার প্রাথমিক সংকেত চিহ্নিত করে পুনর্গঠন, মার্জার বা সুশৃঙ্খল বন্ধের মাধ্যমে হস্তক্ষেপ করবে।”
বর্তমানে পাঁচটি ব্যাংক সরকারী সমর্থনে পুনর্গঠনের অধীনে রয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ২০,০০০ কোটি টাকা। একই সময়ে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক নব-ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান নয় এমন ৯টি প্রতিষ্ঠান (NBFIs) বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে প্রভাবিত আমানতকারীদের ৫,০০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে।
প্রাক্কলিত তহবিল এবং সময়সীমা:
| বার্ষিক প্রিমিয়াম হার | প্রত্যাশিত তহবিল আকার | সময়সীমা |
|---|---|---|
| ০.২৫% আমানতের | ৩০,০০০ কোটি টাকা | ৫ বছর |
| ০.২৫% আমানতের | ৪০,০০০ কোটি টাকা | দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য |
তহবিলের মূল বিনিয়োগ হবে সরকারি সিকিউরিটিজে। ব্যাংকগুলো তাদের আকার ও আর্থিক স্থিতি অনুযায়ী ঝুঁকিভিত্তিক প্রিমিয়াম প্রদান করবে। বিলম্ব হলে জরিমানা ধার্য হবে এবং পুনরাবৃত্তি ঘটলে আমানত গ্রহণে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হবে।
বিশেষজ্ঞ মতামত:
মুহাম্মদ এ. (রুমি) আলী, প্রাক্তন ডেপুটি গভর্নর, সতর্ক করেছেন যে শক্তিশালী ব্যাংকগুলো দুর্বল ব্যাংক সমর্থন করলে শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা ঢেকে যেতে পারে।
মুস্তাফিজুর রহমান, CPD, বলেন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের অনুরূপ কাঠামো সরকারী ব্যয় কমাতে সহায়ক হয়েছে।
সাইয়েদ মাহবুবুর রহমান, MD, Mutual Trust Bank, মনে করেন ০.২৫% প্রিমিয়াম কম, এবং শাসনব্যবস্থা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও অপরিশোধিত ঋণ নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।
সোহেল আর. কে. হোসেন, MD, Bank Asia, ইতিবাচকভাবে দেখছেন, তিনি ঝুঁকিভিত্তিক এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
বিশেষজ্ঞরা একমত, যে তহবিল একাই ব্যাংকিং সেক্টরের কাঠামোগত সমস্যার সমাধান করতে পারবে না, তবে এটি আর্থিক স্থিতিশীলতা ও সরকারী সাহায্যের উপর নির্ভরতা কমানোর দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।