খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬
২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এখনও পাঁচ মাস দূরে থাকলেও ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিশ্বকাপ বয়কট নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক নীতি, বিশেষত গ্রিনল্যান্ড নিয়ে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা এবং ইউরোপের দেশগুলোর প্রতি হুমকিসূচক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
ব্রিটিশ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টে অংশগ্রহণ নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। তবে এই আহ্বানগুলো ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ বা ফুটবল ফেডারেশনগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বয়কটের ঘোষণা নয়।
ত্রিপক্ষীয় আয়োজনে (যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো) বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দলের ম্যাচের সূচি নিম্নরূপ:
| দল | গ্রুপ | প্রতিদ্বন্দ্বী দল |
|---|---|---|
| ইংল্যান্ড | B | ক্রোয়েশিয়া, ঘানা, পানামা |
| স্কটল্যান্ড | F | ব্রাজিল, মরকো, হাইতি |
রাজনৈতিক চাপ বৃদ্ধির কারণে কিছু সংসদ সদস্য মনে করছেন, জাতীয় দলগুলোকে তাদের ক্রীড়া নীতি এবং আন্তর্জাতিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনা করা উচিত। বিরোধী রাজনীতিবিদরা যুক্তি দেন, খেলাধুলার মঞ্চে রাজনৈতিক উত্তেজনা দর্শক ও খেলোয়াড়ের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে এ ধরনের বয়কটের সম্ভাব্য সমর্থন এখনও অনিশ্চিত। স্কটল্যান্ডের ফুটবল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য এখনও মূল ইভেন্টে অংশ নেওয়া এবং সমর্থন প্রদান। ইংল্যান্ডের রাজনৈতিক মহলও মূলত বয়কট নিয়ে আলোচনা করলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেই।
গত বছরের ডিসেম্বরে বিশ্বকাপের পূর্ণাঙ্গ সূচি ঘোষণা করা হয়েছে, এবং অংশগ্রহণকারী দলগুলো ইতিমধ্যেই তাদের প্রস্তুতি শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই বিতর্কের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
ফুটবল এবং রাজনৈতিক ইস্যুর সংযোগ নতুন নয়, তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রাক্কালে রাজনৈতিক চাপের প্রভাব প্রথমবারের মতো এত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ক্রীড়া ইভেন্টের এই জটিল সংযোগ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খেলাধুলাকে শুধুমাত্র ক্রীড়া ও সমর্থকদের আনন্দের মঞ্চ হিসেবে রাখার জন্য এমন বিতর্কের প্রভাব সীমিত রাখা প্রয়োজন।
এ ধরনের রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও দলগুলোর প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে। তবে এই বিতর্ক ক্রীড়া এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে, যা আগামী পাঁচ মাসে আরও স্পষ্ট হবে।