খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার করাচির গুল প্লাজায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারকর্মীরা অন্তত ৬০টির বেশি মরদেহ উদ্ধার করেছেন। করাচি সাউথের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) সৈয়দ আসাদ রাজা জানিয়েছেন, মেজানাইন ফ্লোরে অবস্থিত ‘দুবাই ক্রোকারি’ নামের একটি দোকান থেকে শুরু হয়ে মৃতের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে ২৮টি মরদেহ পাওয়া গেলেও পরে আরও উদ্ধার কার্যক্রমে মৃতের সংখ্যা আনুমানিক ৬১ এ পৌঁছেছে। তবে ডিএনএ রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।”
আগুনের সূত্রপাত হয় গত ১৭ জানুয়ারি, শনিবার। শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে আগুন মুহূর্তের মধ্যেই মার্কেটের সব অংশে ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের টানা ২৪ ঘণ্টা সময় লেগেছে।
ডিআইজি রাজা উল্লেখ করেন, “নিখোঁজদের পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, দোকানটিতে তখন প্রচুর মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনেকেই মনে করেছিলেন আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে, কিন্তু ধোঁয়ার কারণে শ্বাসরোধে তাদের মৃত্যু ঘটে।”
এক এলাকার বাসিন্দা রশীদ জানান, বিয়ের মৌসুমে বিশেষ ছাড়ের কারণে দোকানটি রাত ২টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যদিও সাধারণত রাত ১০টায় বন্ধ হয়ে যেত।
মূল তথ্য সংক্ষেপে:
| ঘটনা | বিস্তারিত |
|---|---|
| আগুনের তারিখ | ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ |
| অবস্থান | গুল প্লাজা, এমএ জিন্নাহ রোড, করাচি |
| ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকৃত মরদেহ | আনুমানিক ৬১ |
| প্রাথমিক মৃতের সংখ্যা | ২৮ |
| ক্ষতিগ্রস্ত দোকান | ‘দুবাই ক্রোকারি’ সহ শতাধিক দোকান |
| মার্কেটের আকার | তিনতলা, প্রায় ১,২০০ দোকান |
| আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় | ২৪ ঘণ্টা (শনিবার রাত থেকে রবিবার) |
| নিরাপত্তা ত্রুটি | আন্তর্জাতিক মানের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না |
সিন্ধু সরকার গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ও করাচি কমিশনার সৈয়দ হাসান নকভি জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে কোনো নাশকতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পাশের রিমপা প্লাজাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে এখনও ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়নি।
করাচি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন (কেএমসি) কর্মকর্তা জাফর খান বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে এবং ভবনের স্থিতিশীল অংশে দমকলকর্মীরা কাজ চালাচ্ছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে আগুনের খবর পাওয়া মাত্রই তিনটি ফায়ার টেন্ডার ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল, এবং উদ্ধার কাজে দোকানদারদের বাধার কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
এই অগ্নিকাণ্ডে হতাহতদের পরিবার ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে। কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছেন, সকল মৃতদেহের পরিচয় শনাক্ত এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।