খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নতুন ভবনের আট তলা থেকে লাফ দিয়ে নাজমীন আক্তার (২০) নামের এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার সময় রাত পৌনে আটটা। নিহত নাজমীন পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার জালাল মিয়ারের কন্যা এবং চার মাস বয়সী এক শিশুর জননী ছিলেন।
পরিবার ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, নাজমীন কিডনিসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং প্রায় এক সপ্তাহ আগে চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালে তার নিয়মিত চিকিৎসা চলছিল এবং চিকিৎসকরা কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থা থাকার কথা জানালেও তার শারীরিক ও মানসিক পরিস্থিতি কিছুটা ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ:
রোববার সন্ধ্যার পর নাজমীন তার চার মাস বয়সী মেয়েকে দেখাশোনার জন্য অন্য কাউকে দিয়ে বাথরুমের দিকে যান। জানা গেছে, এরপর তিনি হাসপাতালের আট তলা বাথরুমের পাশের ফাঁকা জায়গা দিয়ে নিচে লাফ দেন। স্থানীয় ও হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট ছিল, তবে হয়তো মানসিক চাপ ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তারা মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
নাজমীনের ব্যক্তিগত তথ্য সংক্ষেপে:
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| নাম | নাজমীন আক্তার |
| বয়স | ২০ বছর |
| জন্মস্থান | গলাচিপা, পটুয়াখালী |
| পিতার নাম | জালাল মিয়া |
| সন্তান | ১ (চার মাসের কন্যা) |
| হাসপাতালে ভর্তি | ১ সপ্তাহ আগে |
| রোগের ধরন | কিডনিসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা |
| মৃত্যুর সময় | ২৫ জানুয়ারি, রাত ৭:৪৫–৮:০০ |
| ঘটনার স্থান | ঢামেক হাসপাতাল, নতুন ভবন, আট তলা |
পরিবারের বরাত অনুযায়ী, নাজমীন একজন যত্নশীল মেয়ে ও মাতা ছিলেন। তারা জানিয়েছেন, নাজমীন সদা হাস্যোজ্জ্বল ও সহানুভূতিশীল প্রকৃতির ছিলেন। পরিবার আশা করছেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে রোগীর নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য আরও কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাসপাতালে রোগীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীর জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য মানসিক সহায়তা কেন্দ্র, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নজরদারি এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্টাফ নিয়োগ করা প্রয়োজন।
চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তদন্ত শেষে ঘটনার সঠিক কারণ প্রকাশ করা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তারা আরও জানিয়েছেন, হাসপাতালের নিরাপত্তা ও রোগী সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত নজরদারি অবিলম্বে জোরদার করা হবে।