খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকৃতির অন্যতম রহস্যময় এবং লাজুক প্রাণী হিসেবে পরিচিত ‘তুষার চিতা’ বা স্নো লেপার্ডের আক্রমণে গুরুতর আহত হয়েছেন এক পর্যটক। গত শুক্রবার চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং প্রদেশের আলতাই পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত কোক্টোকে শহরের একটি স্কি রিসোর্টের কাছে এই চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটে। সাধারণত মানুষের সান্নিধ্য এড়িয়ে চলা এই বন্যপ্রাণীর এমন আক্রমণ বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ও পর্যটকদের মধ্যে নতুন করে ভাবনার উদ্রেক করেছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভির (CCTV) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই পর্যটক দিনের কার্যক্রম শেষে নিজের হোটেলের দিকে ফিরছিলেন। পথে তিনি হঠাৎ একটি তুষার চিতাকে দেখতে পান। বরফাবৃত পাহাড়ি অঞ্চলে বিশ্বের অন্যতম বিরল ও ‘পাহাড়ের ভূত’ (Ghost of the Mountains) হিসেবে পরিচিত এই প্রাণীকে এত কাছ থেকে দেখার সুযোগ তিনি হাতছাড়া করতে চাননি। ছবি তোলার নেশায় নিজের গাড়ির নিরাপদ বেষ্টনী থেকে নেমে তিনি চিতাটির অনেকটা কাছাকাছি চলে যান। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই বন্যপ্রাণীটি নিজেকে বিপন্ন মনে করে হিংস্রভাবে পর্যটকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
ঘটনাটি ঘটার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু শিহরণজাগানো ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ধবধবে সাদা বরফের ওপর পর্যটক নিথর হয়ে পড়ে আছেন এবং তার খুব কাছেই চিতাটি অবস্থান করছে। পরবর্তী আরেকটি ফুটেজে দেখা যায়, মাথায় হেলমেট পরিহিত ওই পর্যটক রক্তাক্ত মুখে কোনোমতে উঠে দাঁড়াচ্ছেন এবং দুইজন পথচারীর সহায়তায় নিরাপদ স্থানে সরে আসছেন। ঘটনার পরপরই তাকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় বন ব্যুরো থেকে জানানো হয়েছে যে, পর্যটকের আঘাত গুরুতর হলেও বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
তুষার চিতা সাধারণত অত্যন্ত লাজুক স্বভাবের হয় এবং মানুষের সামনে আসা তো দূরের কথা, খুব একটা দেখাই দেয় না। তবে জলবায়ু পরিবর্তন এবং বাসস্থানের সংকটের কারণে ইদানীং এদের চলাচলের এলাকায় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ডের (WWF) তথ্যমতে, তুষার চিতা পৃথিবীর অন্যতম বিপন্ন প্রজাতি।
নিচে তুষার চিতা সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| বৈশ্বিক জনসংখ্যা | ৪,০০০ থেকে ৬,৫০০ (আনুমানিক) |
| প্রধান আবাসস্থল | মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার উঁচু পর্বতমালা |
| চীনে অবস্থান | বিশ্বের মোট তুষার চিতার ৬০ শতাংশ |
| খাদ্য তালিকা | নীল ভেড়া (ব্লু শিপ), আইবেক্স এবং ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী |
| আক্রমণের ধরন | অত্যন্ত বিরল; আত্মরক্ষার খাতিরে আক্রমণ করতে পারে |
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের ওপর তুষার চিতার আক্রমণের ঘটনা ইতিহাসে খুবই বিরল। সাধারণত শিকারি এই প্রাণীগুলো মানুষের গন্ধ পেলেই সেখান থেকে সরে যায়। তবে শীতকালে খাদ্যের সন্ধানে তারা অনেক সময় নিচের দিকে নেমে আসে। কোক্টোকের এই ঘটনায় ছবি তোলার জন্য পর্যটকের অতি উৎসাহকে দায়ি করছেন অনেকে। বন্যপ্রাণীর সীমানায় অনধিকার প্রবেশ এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখা প্রাণঘাতী হতে পারে।
স্থানীয় প্রশাসন পর্যটকদের সতর্ক করে জানিয়েছে যে, বন্যপ্রাণীর দেখা মিললে যেন কোনোভাবেই গাড়ি থেকে নামা না হয় এবং ফ্ল্যাশ লাইট ব্যবহার করে ছবি তোলা থেকে বিরত থাকা হয়। প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে নিজের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলা কোনোভাবেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়।