খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 16শে মাঘ ১৪৩২ | ২৯ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের আকস্মিক প্রত্যাহারের বিষয়টিকে একটি রহস্যজনক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বুধবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট জানান যে, ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের বাংলাদেশ ত্যাগের পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা শঙ্কার কথা সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ভারত কোনো বিশেষ ‘সংকেত’ বা বার্তা দিতে চাইছে কি না, সে বিষয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের মতে, বাংলাদেশে বর্তমানে এমন কোনো উত্তাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে না যার ফলে বিদেশি কর্মকর্তাদের পরিবার-পরিজনকে বিপদে পড়তে হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারত কেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তাঁর মতে, এটি তাদের নিজস্ব প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হতে পারে, যেখানে বাংলাদেশের হস্তক্ষেপ করার কোনো অবকাশ নেই। তবে তিনি এটিও যোগ করেন যে, হয়তো ভারতের মনে কোনো অমূলক আশঙ্কা কাজ করছে অথবা তারা এর মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে কোনো বিশেষ বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে যে বিতর্ক রয়েছে, সে সম্পর্কেও উপদেষ্টা তাঁর মতামত দেন। তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে নির্বাচনকালীন যে ধরনের সহিংসতা বা সংঘর্ষের ইতিহাস রয়েছে, তার তুলনায় এবারের পরিস্থিতি অনেক বেশি শান্ত ও স্বাভাবিক। ফলে নিরাপত্তার অজুহাতে কূটনীতিকদের পরিবার সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি কোনোভাবেই পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তৌহিদ হোসেন জানান, হাইকমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বড় উদ্বেগের কথা জানায়নি। তবে অতীতে যখন মিশনের আশেপাশে ঘেরাও বা বিক্ষোভের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তখন ভারত সরকারের অনুরোধে সরকার পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিল। নিচে ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাহার ও সংশ্লিষ্ট প্রেক্ষাপটের একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো:
| বিষয় | সরকারি অবস্থান ও তথ্য |
| অফিসিয়াল অভিযোগ | ভারতের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানানো হয়নি। |
| নিরাপত্তা ব্যবস্থা | ভারতীয় হাইকমিশনের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। |
| নির্বাচকালীন সহিংসতা | বিগত নির্বাচনের তুলনায় বর্তমানে সংঘর্ষ বা সহিংসতার হার অনেক কম। |
| কূটনৈতিক পরিবারের অবস্থান | ভারত সরকার তাদের নিজ সিদ্ধান্তে পরিবারগুলোকে ফেরত নিয়ে যাচ্ছে। |
| ব্যর্থতা বা সাফল্য | সরকার এটিকে কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখছে না, বরং ভারতের একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত মনে করছে। |
এ সময় চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ভারতকে দেওয়া বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (SEZ) প্রসঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন উপদেষ্টা। তিনি জানান, ভারতকে দেওয়া ওই বিশেষ বরাদ্দ অনেক আগেই বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে সেই জমিটি একটি নির্দিষ্ট খাতের শিল্পায়নের জন্য নতুন করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন যে, ভারত তাদের কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যু বা অতীতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মতো কোনো ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে তুলনা করতে চাইলে সেটি তাদের বিষয়। তবে বাংলাদেশ সরকার তার দেশের ভূখণ্ডে থাকা সকল বিদেশি কূটনীতিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ যদি বর্তমান নিরাপত্তায় সন্তুষ্ট না হয়, তবে সরকারের পক্ষ থেকে এর চেয়ে বেশি কিছু করার নেই বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।
উপসংহারে বলা যায়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র দপ্তর মনে করছে যে ভারতের এই পদক্ষেপের পেছনে নিছক নিরাপত্তার চেয়ে কূটনৈতিক মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির প্রয়াস থাকতে পারে। তবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্বার্থে বাংলাদেশ সরকার এখনো আলোচনার পথ উন্মুক্ত রাখতে চায়।