খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের টালমাটাল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে বয়কটের গুঞ্জন জোরালো হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি ও মিনিয়াপোলিসে তার সরকারের এজেন্টদের হাতে দুই বিক্ষোভকারীর প্রাণহানির পর অনেক ফুটবলপ্রেমী, বিশেষ করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই বিতর্ক উস্কে দিচ্ছেন। তবে বাস্তবে বিশ্বকাপ বয়কট হওয়ার সম্ভাবনা এখনও সীমিত।
বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়টি মূলত সমালোচক ও কিছু ফুটবল সমর্থকের মধ্যে সীমাবদ্ধ। যারা সত্যিই প্রভাব রাখতে পারেন—উচ্চপদস্থ ফুটবল কর্মকর্তা বা রাষ্ট্রপ্রধান—তাদের মধ্যে এ নিয়ে তেমন কোনো শোরগোল নেই। তবে ট্রাম্পের অননুমেয় আচরণ এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করার সম্ভাবনা থাকায় এই আলোচনা মাঝে মাঝে জনমনে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তার অভিবাসন নীতি ও অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট ফুটবলপ্রেমীরা এমন দেশে বিশ্বকাপ আয়োজনের বিরোধিতা করছেন। সম্প্রতি ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে আমেরিকার অংশ হিসেবে দেখার হুমকি দিয়েছেন। সামরিক হস্তক্ষেপ বা উচ্চ শুল্ক আরোপের বিষয়টি কিছুটা নরম হলেও ন্যাটোর মিত্রদেশগুলোতে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে বিশ্বকাপ বয়কট এক কার্যকরী পদ্ধতি হতে পারে।
| দেশ/সংগঠন | প্রতিক্রিয়া | মন্তব্য |
|---|---|---|
| জার্মানি | সেন্ট পাওলি ক্লাবের সভাপতি গটলিশ বয়কটের পক্ষে | জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি নয়েনডর্ফ বিষয়টি ছোটখাট বিবেচনা করেছেন |
| ফ্রান্স | ক্রীড়ামন্ত্রী ও ফুটবল ফেডারেশন সভাপতি বয়কট বাতিল | ফিলিপ দিয়ালো বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে বয়কটের প্রশ্নই ওঠে না’ |
| ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড | আলোচনা নেই | বাস্তব কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি |
| স্পেন | কোনো সরকারি বা ফেডারেশন উদ্যোগ নেই | রাজনীতি ও খেলাকে আলাদা রাখতে চায় |
| অস্ট্রিয়া | রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নয় | ফেডারেশনের সভাপতি জানিয়েছেন, খেলাধুলার স্বতন্ত্রতা বজায় রাখা প্রয়োজন |
বিশ্বকাপ সম্পূর্ণ বয়কট করতে হলে তা একাধিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও আন্তর্জাতিক ফেডারেশনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে হতে হবে। খেলোয়াড় ও ফেডারেশনগুলোর আর্থিক আগ্রহ থাকায় বয়কট বাস্তবায়ন কঠিন। ইতিহাসে একমাত্র উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো ১৯৮০ সালের মস্কো অলিম্পিক, যেখানে সোভিয়েত ইউনিয়নের আফগানিস্তান আক্রমণের প্রতিবাদে প্রায় ৬০টি দেশ বর্জন করেছিল।
নিশ্চিত দেশগুলো যারা ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে (ন্যাটো সদস্য ছাড়া)
| দেশ | অংশগ্রহণ নিশ্চিত |
|---|---|
| স্পেন | হ্যাঁ |
| ফ্রান্স | হ্যাঁ |
| জার্মানি | হ্যাঁ |
| ইংল্যান্ড | হ্যাঁ |
| নেদারল্যান্ডস | হ্যাঁ |
| পর্তুগাল | হ্যাঁ |
| বেলজিয়াম | হ্যাঁ |
কিছু সমর্থক গোষ্ঠী ব্যক্তিগত প্রতিবাদ জানিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ইংল্যান্ডের এলজিবিটিকিউ সমর্থক গোষ্ঠী ‘থ্রি লায়নস প্রাইড’ মাঠে উপস্থিত হবে না এবং সাবেক ফিফা সভাপতি সেপ ব্ল্যাটার বলেছেন, সমর্থকরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরে থেকেও টেলিভিশনে বিশ্বকাপ দেখতে পারেন।
বর্তমানে ২০২৬ বিশ্বকাপ বয়কটের আশঙ্কা খুবই ক্ষীণ। ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে আপাতত সরে এসেছেন এবং ন্যাটোর সঙ্গে সমঝোতার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের অননুমেয় আচরণ এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি ভাঙার সম্ভাবনা থাকায় ইউরোপীয় দেশগুলো শেষ অস্ত্র হিসেবে বিশ্বকাপ বয়কটের পথ নিতে পারে।
সুতরাং, সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের জন্য খেলাটি অনিশ্চয়তার মধ্যে হলেও, ২০২৬ বিশ্বকাপ এখনও খেলার মঞ্চ হিসেবে বহাল।