খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
অমর একুশে বইমেলার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও ধারাবাহিকতা রক্ষায় এক অনমনীয় অবস্থান গ্রহণ করেছেন দেশের লেখক, প্রকাশক ও সংস্কৃতিকর্মীরা। সরকারি সিদ্ধান্তে মূল বইমেলা ২০ ফেব্রুয়ারি পিছিয়ে যাওয়ায় এর প্রতিবাদে এবং ১ ফেব্রুয়ারির চিরায়ত আবেগ ধরে রাখতে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ‘প্রতীকী বইমেলা’র ডাক দিয়েছে ‘একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদ’। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলা একাডেমির কবি আল মাহমুদ লেখক কর্নারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মফিজুর রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৫২ সালের ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং একুশের চেতনাকে ধারণ করে প্রতিবছর ১ ফেব্রুয়ারি থেকে মাসব্যাপী যে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়, তা আজ কেবল একটি মেলা নয়; বরং বাংলাদেশের বৃহত্তম সৃজনশীল সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। সরকার ও বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ অংশীজনদের সাথে কোনো প্রকার আলোচনা না করেই মেলার তারিখ পরিবর্তন করে ২০ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করেছে, যা দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি করেছে।
নিচে প্রতীকী বইমেলা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলি একটি টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
সারণি: প্রতীকী অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর সংক্ষিপ্ত রূপরেখা
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| আয়োজক সংস্থা | একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদ |
| উদ্বোধনের তারিখ ও সময় | ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সকাল ১০:৩০ মিনিট |
| উদ্বোধক | ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী |
| স্থান | বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ (একাডেমি চত্বর) |
| অংশগ্রহণকারী | ৫০টিরও বেশি প্রকাশনা সংস্থা এবং সর্বস্তরের সংস্কৃতিকর্মী |
| সাংস্কৃতিক কর্মসূচি | আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি, সংগীত ও নাটক |
সংগ্রাম পরিষদের দাবি, বইমেলার তারিখ পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি ছিল একপাক্ষিক। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সাথে পরামর্শ না করেই এই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচনের পরিবেশের দোহাই দেওয়া হয়েছে, তবে আন্দোলনকারীদের মতে, নির্বাচনের দিন ও তার আগে-পরে কয়েক দিন মেলা বন্ধ রেখেও ১ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরু করা সম্ভব ছিল। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকেই এই তারিখ পরিবর্তনের পায়তারা শুরু হলে লেখক-প্রকাশকরা এর প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বিশিষ্টজনরা জানান, গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছ থেকে এমন ঐতিহ্যবিরোধী সিদ্ধান্ত কেউ প্রত্যাশা করেনি। তাদের মতে, বইমেলা একটি জাতীয় আবেগের নাম, যা কোনো বিশেষ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘায়িত বা সংকুচিত করা সমীচীন নয়।
আয়োজকরা স্পষ্ট করেছেন যে, এই প্রতীকী মেলার সাথে বাংলা একাডেমির কোনো সরাসরি বিরোধ নেই। বাংলা একাডেমির মৌখিক সম্মতি নিয়েই এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হচ্ছে। ১ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকেই একাডেমি চত্বরে মেলার আমেজ তৈরি করা হবে। সেখানে বই প্রদর্শনী ও বিক্রির পাশাপাশি মঞ্চে দিনভর চলবে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০টি প্রকাশনা সংস্থা এই প্রতীকী মেলায় স্টল দিতে সম্মত হয়েছে এবং এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বইমেলা সংগ্রাম পরিষদ আরও জানায়, এই প্রতীকী মেলা সম্পন্ন করার পর তারা ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া মূল বইমেলাতেও অংশ নেবেন। তবে ১ ফেব্রুয়ারির ঐতিহ্য ধরে রাখতেই তাদের এই অবস্থান। প্রাণের টানে এবং ভাষার মাসের প্রথম দিনের আবেগ ধারণ করতে বিপুল সংখ্যক বইপ্রেমী ও সংস্কৃতি অনুরাগী সেদিন বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে উপস্থিত হবেন বলে আয়োজকরা বিশ্বাস করেন।