২০০৫ সালের বিস্ফোরণ সংক্রান্ত ক্ষতিপূরণ মামলায় নাইকোর কাছে বাংলাদেশ পাচ্ছে আংশিক ক্ষতিপূরণ

সুনামগঞ্জের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ২০০৫ সালের বিস্ফোরণ সংক্রান্ত ক্ষতিপূরণ মামলায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি সালিসি আদালত (ICSID) বাংলাদেশকে ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার বা প্রায় ৫১২ কোটি টাকা দেওয়ার রায় দিয়েছে। এটি কানাডার কোম্পানি নাইকো রিসোর্সেসের দায়।

বাংলাদেশ সরকার ও বাপেক্স (BAPEX) এই ঘটনায় গ্যাসপুড়িয়ে ফেলা এবং পরিবেশের ক্ষতির জন্য প্রাথমিকভাবে ১০১ কোটি ৪০ লাখ ডলার (প্রায় ১২,৩৭১ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণের দাবি করেছিল। রায়ের বিস্তারিত প্রকাশিত হয়নি, তবে আইনজীবীদের মাধ্যমে পাওয়া সংক্ষিপ্তসার অনুযায়ী এই পরিমাণ চূড়ান্ত হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান প্রাথমিকভাবে ক্ষতিপূরণের খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, “বিস্তারিত রায় পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র ও বিস্ফোরণ সংক্রান্ত তথ্যসংকলন:

বিষয় বিবরণ
অবস্থান সুনামগঞ্জ, ছাতক
নাইকোর কাছে হস্তান্তর ২০০৩
বিস্ফোরণের তারিখ ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন ২০০৫
প্রাথমিক ক্ষতিপূরণ দাবি ৭৪৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা
বাংলাদেশ সরকার ও বাপেক্সের যৌথ ICSID দাবি ১০১ কোটি ৪০ লাখ ডলার (১২,৩৭১ কোটি টাকা)
চূড়ান্ত ICSID রায় ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার (৫১২ কোটি টাকা)
সম্ভাব্য মজুত গ্যাস ২–৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট

২০০৫ সালের বিস্ফোরণে গ্যাসক্ষেত্রের একটি অংশ ধ্বংস হয়ে গেলে আশপাশের স্থাপনা ও সম্পদও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিপূরণ মামলাটি ২০০৭ সালে পেট্রোবাংলার মাধ্যমে দেশের আদালতে দায়ের করা হয়। হাইকোর্ট নাইকোর বাংলাদেশে থাকা সমস্ত সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দেয়। সুপ্রিম কোর্টও পেট্রোবাংলার পক্ষে রায় প্রদান করে।

২০১০ সালে নাইকো ICSID-এ সালিসি মোকদ্দমা দায়ের করে দায় অস্বীকার করে। ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে বাপেক্স সমীক্ষা পরিচালনা করে এবং ICSID-এ ক্ষতিপূরণের চূড়ান্ত দাবি জানানো হয়।

ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে সমালোচনা ও অভিযোগও উঠেছে। জাতীয় কমিটি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, আসল ক্ষতি অনেক বেশি এবং প্রাথমিক দাবি ও মামলা পরিচালনায় গাফিলতির কারণে প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণ সীমিত।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রের ছাতক পশ্চিম অংশের একটি স্তর ধ্বংস হলেও অন্যান্য স্তর এবং ছাতক পূর্ব অংশের মজুত অক্ষত রয়েছে। সম্ভাব্য মজুত গ্যাস ২–৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট বলে অনুমান করা হচ্ছে।

আইনজীবীদের পরামর্শ এবং ICSID-এর চূড়ান্ত রায় পাওয়ার পর সরকার দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এ পদক্ষেপের মধ্যে নতুন কূপ খনন ও উন্নয়ন প্রকল্প (DPP) কার্যকর করা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।