খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিনোদন জগতের সাম্প্রতিক এক ঘটনার কারণে আবারও নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠেছে ভারতের ঔপনিবেশিক আমলে লুট হওয়া প্রত্নসম্পদের ফেরত দাবি। সম্প্রতি ব্রিটিশ-অস্ট্রেলীয় অভিনেত্রী মার্গট রবি নিজের আসন্ন চলচ্চিত্র ‘উদারিং হাইটস’ এর প্রিমিয়ারে অংশগ্রহণ করেন একটি চোখধাঁধানো নেকলেস পরিহিত অবস্থায়। নেকলেসটির মূল আকর্ষণ ছিল ৪০০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ‘তাজমহল’ হীরা, যা ভারতের ইতিহাসে এক অমূল্য রত্ন হিসেবে পরিচিত।
এই হীরাটি ১৬২৭ সালে মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের স্ত্রী নূর জাহান এর মালিকানাধীন ছিল। হীরার পৃষ্ঠে খোদাই করা ফার্সি লিপি আজও সেই সময়ের ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে। কিন্তু হীরাটি বর্তমানে মার্গট রবির গলায় পরা দেখে ভারতের নাগরিক ও নেটিজেনদের মধ্যে বড় একটি অংশ তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে।
সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ফোরামে বিশেষত ফরাসি জুয়েলারি হাউস কার্তিয়ের কে সমালোচনার মুখে পড়তে দেখা গেছে। সমালোচকরা অভিযোগ করেছেন, এই হীরাটি ভারতের ঔপনিবেশিক শাসনের সময় দেশ থেকে অবৈধভাবে সরানো হয়েছিল। নূর জাহানের মালিকানা থেকে এটি এক সময় ব্রিটিশ-আমেরিকান অভিনেত্রী এলিজাবেথ টেলর এর সংগ্রহে যায় এবং ২০১১ সালে তার মৃত্যুর পর নিলামে বিক্রি হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে কোহিনূর হীরার মতো মূল্যবান ভারতীয় সম্পদ ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিই নতুন করে জোরালো হচ্ছে। আগের বছর মেট গালায় ভারতীয় গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জ একটি ঐতিহাসিক নেকলেস পরতে চেয়েছিলেন, কিন্তু কার্তিয়ের কর্তৃপক্ষ প্রদর্শনীতে থাকার অজুহাতে তা মঞ্জুর করেনি। অথচ ২০২২ সালে ইউটিউবার এমা চেম্বারলেন কে সেই একই সংগ্রহের গয়না পরতে দেওয়া হয়েছিল।
নিচের টেবিলে হীরার ইতিহাস সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বছর | মালিক | ঘটনা |
|---|---|---|
| ১৬২৭ | নূর জাহান | হীরার প্রাথমিক মালিকানা মোঘল যুগে |
| ১৯৬০ | এলিজাবেথ টেলর | পশ্চিমা সংগ্রাহকের কাছে স্থানান্তর |
| ২০১১ | নিলাম | এলিজাবেথ টেলরের মৃত্যুর পর বিক্রি |
| ২০২৬ | মার্গট রবি | চলচ্চিত্র প্রিমিয়ারে প্রদর্শন |
মার্গট রবির এই সাজ আন্তর্জাতিক মহলে পুনরায় বিতর্ক উস্কে দিয়েছে। বিশেষত প্রাচীন রত্নগুলো ব্যক্তিগত সংগ্রাহকের কাছে থাকা এবং নিজ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ভারতীয় দাবিকে অনেকেই দ্বিচারিতা ও ঐতিহ্যের অবমাননা হিসেবে দেখছেন। এই ঐতিহাসিক হীরাটি শুধুমাত্র গয়না নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের কাছে এক হারানো গৌরবের প্রতীক হিসেবে গণ্য হচ্ছে।