খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের সঙ্গে গ্রুপ ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা পাকিস্তান সরকার দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছে। আইসিসি বলেছে, এমন সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক ক্রিকেট ও টুর্নামেন্টের স্বার্থের পরিপন্থী।
পাকিস্তান সরকারের এক্সে দেওয়া পোস্টের প্রায় তিন ঘণ্টা পর আইসিসি একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা এখনও পিসিবি থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো যোগাযোগ পাননি। তবে তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কোনো দল ইচ্ছামতো কোনো ম্যাচ খেলবে বা না খেলার সিদ্ধান্ত নিলে তা বৈশ্বিক ক্রীড়া ইভেন্টের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আইসিসির মতে, টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ সব দলকে সমানভাবে দেওয়া হয় এবং প্রতিযোগিতা, ধারাবাহিকতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে আয়োজন করা হয়।
আইসিসি সতর্ক করেছে, পিসিবিকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেশের ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করতে হবে। কারণ, ম্যাচ বয়কট করলে এটি শুধু টুর্নামেন্টের স্বচ্ছতা ও সমতা ক্ষুণ্ণ করবে না, বরং পাকিস্তান ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও ভক্তদের স্বার্থেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশ নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ার পর আইসিসি স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। সেই প্রসঙ্গে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি ভারতের প্রতি পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে বলেন, পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারই নেবে।
পিসিবার গ্রুপ ‘এ’-এর সূচি নিম্নরূপ:
| তারিখ | বিপক্ষ দল | স্থান | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ৭ ফেব্রুয়ারি | নেদারল্যান্ডস | শ্রীলঙ্কা | পাকিস্তানের টুর্নামেন্ট শুরু |
| ১০ ফেব্রুয়ারি | যুক্তরাষ্ট্র | শ্রীলঙ্কা | গ্রুপ ম্যাচ |
| ১৫ ফেব্রুয়ারি | ভারত | শ্রীলঙ্কা | সম্ভাব্য বয়কট; ২ পয়েন্ট হার হবে |
| ১৮ ফেব্রুয়ারি | নামিবিয়া | শ্রীলঙ্কা | গ্রুপ ম্যাচ |
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ম্যাচ যদি ফরফিট হয়, তাহলে ফরফিট করা দলের নেট রান রেট ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নিয়ম ১৬.১০.৭ অনুসারে, ফরফিট হওয়া ম্যাচে পূর্ণ ২০ ওভারের হিসাব অন্তর্ভুক্ত করা হবে, ফলে তাদের গড় রান রেটে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে প্রতিপক্ষ দলের নেট রান রেট এতে প্রভাবিত হবে না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতের সঙ্গে ম্যাচ বয়কট পাকিস্তানের জন্য কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে বড় ধাক্কা হতে পারে। না খেলে শুধু দুই পয়েন্ট হারবে না, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাজার ও টুর্নামেন্টের ফলাফলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আইসিসির বিবৃতিতে এই সতর্কবার্তা স্পষ্ট যে, টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ সব দলের সম্মিলিত দায়িত্ব।
পাকিস্তানের সমর্থক ও ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিলে দেশটির ক্রিকেট প্রভাবিত হবে, যা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। তাই এখন পিসিবার প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো, সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করে এমন একটি সমাধান খুঁজে বের করা।