খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 20শে মাঘ ১৪৩২ | ২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশে নতুন প্রাইমারি ডিলার নীতি চালু হওয়ার পর থেকে সরকারি ট্রেজারি বিলের (টি-বিল) রিটার্নে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য এই নতুন কাঠামোর মাধ্যমে সরকারি সিকিউরিটি বাজারকে সচল রাখা, বিনিয়োগকারীদের বিডিং আচরণকে প্রভাবিত করা এবং মোট বিনিয়োগ কার্যক্রমকে গতিশীল করা।
সাম্প্রতিক নিলামের ফলাফল অনুযায়ী, ৯১ দিনের টি-বিলের কার্যকরী রিটার্ন ১০.০৫% থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১০.৪০% হয়েছে। অনুরূপভাবে, ১৮২ দিনের টি-বিলের রিটার্ন ১০.২৩% থেকে ১০.৩৪% এবং ৩৬৪ দিনের রিটার্ন ১০.৩৪% থেকে ১০.৪৯% বেড়েছে। এই নিলামের মাধ্যমে সরকার মোট ৭৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে, যা আংশিকভাবে জাতীয় বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় সহায়তা করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “নতুন প্রাইমারি ডিলার কাঠামোর অধীনে শুধুমাত্র নির্ধারিত ব্যাংকগুলো নিলামে অংশগ্রহণ করতে পারবে। এর ফলে টি-বিলের রিটার্নের ওপর উর্ধ্বমুখী চাপ সৃষ্টি হয়েছে।”
বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট ২৪টি প্রাইমারি ডিলার নির্বাচিত করেছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো দ্বিতীয়ক বাজারে তরলতা বৃদ্ধি, কার্যকারিতা উন্নয়ন, বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সরকারের ঋণ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সরকার নিয়মিতভাবে চার ধরনের স্বল্পমেয়াদি টি-বিল জারি করে। পাশাপাশি, দুই থেকে বিশ বছর মেয়াদি পাঁচটি সরকারি বন্ডও সক্রিয়ভাবে বাজারে ট্রেড হয়, যা ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠিত বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ প্রদান করে।
সাম্প্রতিক টি-বিল নিলামের ফলাফল
| টি-বিল ধরন | পূর্ববর্তী রিটার্ন | বর্তমান রিটার্ন | মেয়াদ |
|---|---|---|---|
| ৯১ দিন | ১০.০৫% | ১০.৪০% | ৩ মাস |
| ১৮২ দিন | ১০.২৩% | ১০.৩৪% | ৬ মাস |
| ৩৬৪ দিন | ১০.৩৪% | ১০.৪৯% | ১২ মাস |
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন প্রাইমারি ডিলার কাঠামো প্রতিযোগিতামূলক বিডিংকে উৎসাহিত করছে, নিলামের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করছে এবং সরকারি সিকিউরিটির মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়াকে উন্নত করছে। বিশেষজ্ঞরা পরবর্তী নিলামে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকবে কিনা তা সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
গত বছরের তুলনায় সাম্প্রতিক এই উত্থান প্রমাণ করে যে, কঠোর অংশগ্রহণ নীতি এবং সক্রিয় ঋণ ব্যবস্থাপনা বাজারে শক্তিশালী প্রভাব ফেলতে সক্ষম। এর ফলে, বাংলাদেশের টি-বিল বাজার আগামী মাসগুলোতে আরও গতিশীল এবং সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা দেখাচ্ছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি স্পষ্ট বিনিয়োগ সুযোগ নির্দেশ করছে।