খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাফায়েলা পিমেন্তা কখনো মাঠে খেলেননি, কখনো নিজে গোল করেছেননি, কিংবা ডাগআউটে দাঁড়িয়ে কোনো দলকে জয়ী করেছেননি। তবু ৫৩ বছর বয়সে তিনি ২০২৬ সালের ফোর্বসের ‘ফিফটি ওভার ফিফটি’ তালিকায় স্থান করে নেওয়া একমাত্র ফুটবল ব্যক্তিত্ব। ফোর্বস প্রতিবছর জানুয়ারিতে এমন ৫০ জন নারীর তালিকা প্রকাশ করে, যারা নিজ ক্ষেত্রের প্রভাব ও নেতৃত্বের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত।
এই তালিকায় আছেন অস্কারজয়ী অভিনেত্রী পেনেলোপে ক্রুজ এবং ক্যান্টারবেরির প্রথম নারী আর্চবিশপ ডেম সারা মুলালি। একই তালিকায় ফুটবলের প্রথম নারী ‘সুপার এজেন্ট’—ব্রাজিলের রাফায়েলা পিমেন্তা। তাঁর অধীনে থাকা খেলোয়াড় ও কোচদের তালিকায় রয়েছে বিশ্বমানের নাম।
| খেলোয়াড়/কোচ | ক্লাব/জাতীয় দল | বয়স | উল্লেখযোগ্য তথ্য |
|---|---|---|---|
| আর্লিং হলান্ড | ম্যানচেস্টার সিটি | ২৩ | বিশ্বমানের স্ট্রাইকার |
| আর্নে স্লট | লিভারপুল কোচ | ৫৪ | ডাচ কোচ, সফল কর্মজীবন |
| গিলবার্তো মোর | মেক্সিকো U-17 | ১৭ | তরুণ প্রতিভা, আন্তর্জাতিক নজর |
ফুটবল এজেন্ট হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা নিয়ে সম্প্রতি বিবিসি স্পোর্টস-এর সঙ্গে খোলামেলা সাক্ষাৎকারে পিমেন্তা বলেন, বর্তমান ট্রান্সফার উইন্ডোয় খেলোয়াড়দের অসহায়তা সবচেয়ে বড় সমস্যা। তিনি বলেছেন, “ক্লাবগুলো অতিমাত্রায় ক্ষমতাধর হয়ে উঠেছে। অনেক সময় খেলোয়াড়রা পরিস্থিতির হাতে জিম্মি হয়ে যায়। আমি বিশৃঙ্খলা চাই না, তবে ভারসাম্য থাকা জরুরি। প্রতিটি উইন্ডোর শেষে কোনো না কোনো খেলোয়াড় কাঁদে, কারণ ক্লাব তাকে যেতে দেয় না।”
তিনি আরও বলেন, “আগে ফুটবল মানবিক ছিল। খেলোয়াড় এবং ক্লাব মালিকদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকত। এখন খেলোয়াড়কে শুধুই ‘সম্পদ’ হিসেবে দেখা হয়। চ্যালেঞ্জ হলো সম্পদ এবং মানুষের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে পাওয়া।”
পিমেন্তা আরও প্রকাশ করেন, “একবার আমরা ক্লাবের দরজা বন্ধ করে ১৮ ঘণ্টা বসে ছিলাম যতক্ষণ না চুক্তি সম্পন্ন হয়। এখন নথিপত্র, শ্রম আইন, কর ও স্থানীয় আইন—all সব একসাথে সামলাতে হয়। খেলোয়াড়রা মাঠের বাইরের সুযোগের দিক থেকে এখন ছোট ছোট কোম্পানির মতো।”
বিশ্বমানের তারকা হলান্ডের এজেন্ট হিসেবে পিমেন্তা জানান, “খেলোয়াড়রা নিজেরা আরও সক্রিয়। ডিজিটাল মিডিয়া, স্পনসর, বিনিয়োগ—সব মিলিয়ে তাদের সময় খুব কম। প্রতিদিন নিজেকে প্রমাণ করতে হয়। একবার ভুল হলেই তা চিরস্থায়ী প্রভাব ফেলে।”
পিমেন্তার ক্যারিয়ার শুরু হয় বিতর্কিত এজেন্ট মিনা রাইওলার-এর সঙ্গে। তিনি বলেন, “মিনা বলেছিলেন, আমি একমাত্র মানুষ, যে শুধু টাকা না দেখেই কাজ করব। অন্যরা শুধু অর্থের দিকে নজর রাখত। এই সম্পর্ক ৩৫ বছর টিকেছে।”
নারী হওয়ার কারণে পিমেন্তার জন্য সব সময় অভিজ্ঞতা সুখকর ছিল না। তিনি বলেন, “ফুটবল ক্লাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের জায়গায় নারী খুব কম থাকতেন। স্বীকৃতি কম। এখন কিছুটা উন্নতি হয়েছে, তবে অনেক পুরুষ এখনো লৈঙ্গিক বৈষম্য ব্যবহার করে নারীদের দুর্বল প্রমাণ করার চেষ্টা করে।”
ফুটবলে নারীদের প্রতি অন্যায় ও নিপীড়ন বিষয়ে পিমেন্তা স্পষ্ট: “কোনো ঘটনা মেসির সঙ্গে ঘটলে হয়তো সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হতো। এখানে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি ভয়ংকর।”
শেষে তিনি নবীন নারী ফুটবল পেশাজীবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “নারী মানেই কম জানা নয়। আপনি নির্যাতন মেনে নেবেন না। আমি নিজের জন্য নয়, নতুন প্রজন্মের জন্য লড়ছি। তারা যেন আমার মতো অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”