খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে মাঘ ১৪৩২ | ৩ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পরিকল্পনা অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের জন্য রাজধানীতে প্রায় ৫ হাজার যানবাহন রিকুইজিশন করা হতে পারে। এ রিকুইজিশনের মধ্যে রয়েছে সরকারি এবং ব্যক্তিগত গাড়ি। যদিও উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সাধারণত ব্যক্তিগত গাড়ি রিকুইজিশন থেকে বাদ থাকে, তবে বিশেষ প্রয়োজনে এ ব্যবস্থাও নেওয়ার অনুমতি থাকছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান জানান, রিকুইজিশন কার্যক্রম ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে। প্রয়োজনে ব্যক্তিগত গাড়িও নির্বাচনি কাজে ব্যবহার করা হতে পারে, যা আইন অনুযায়ী কোনো ব্যত্যয় নয়। তিনি আরও জানান, গাড়িগুলো বিভিন্ন সংস্থার জন্য রিকুইজিশন করা হবে, যেখানে পুলিশ, সেনাবাহিনী, আনসার, বিজিবি এবং টেলিকম খাতের সংস্থা অন্তর্ভুক্ত।
ডিএমপির ধারণামতে প্রয়োজনীয় গাড়ির সংখ্যা নিম্নরূপ:
| যানবাহনের ধরন | সংখ্যা (প্রায়) |
|---|---|
| বাস | ২,৪০০ |
| ট্রাক | ৩০ |
| লেগুনা | ১,১০০ |
| মাইক্রোবাস | ১,০০০+ |
গত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা ও ২০১৮ সালের আন্দোলনের সময় রাজধানীতে সহিংসতার কারণে পুলিশের নিজস্ব যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নতুন গাড়ি সংগ্রহে সমস্যার মুখে পড়তে হয়। সুতরাং নির্বাচনের সময় অতিরিক্ত গাড়ি রিকুইজিশনের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়।
রিকুইজিশনের সময়কাল গাড়ি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, কোনো কোনো গাড়ি তিন দিনের জন্য, কিছু পাঁচ দিনের জন্য এবং কয়েকটি গাড়ি ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নেওয়া হতে পারে। যদিও আইন অনুযায়ী গাড়ি সর্বোচ্চ সাত দিনের জন্য রিকুইজিশন করা যেতে পারে, অনেকক্ষেত্রে সময় সীমা অতিক্রমের অভিযোগও রয়েছে।
ডিএমপি অধ্যাদেশ ১০৩-ক অনুযায়ী, কোনো যানবাহন পুলিশ কমিশনারের লিখিত আদেশে সর্বোচ্চ সাত দিনের জন্য জনস্বার্থে রিকুইজিশন করা যায়। গাড়ি মালিককে অবশ্যই নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। আনিছুর রহমান বলেন, রিকুইজিশনের আগে মালিকদের লিখিত ‘রিকুইজিশন পত্র’ দেওয়া হবে, যেখানে গাড়ি নেওয়ার তারিখ, সময় ও স্থান উল্লেখ থাকবে। গাড়ির কোনো ক্ষতি হলে মালিককে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে, চালকের খাওয়ারও ব্যবস্থা করা হবে।
উচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে, ২০১৯ সালের ৩১ জুলাই হাইকোর্ট ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি অটোরিকশা ও ট্যাক্সিক্যাবকে রিকুইজিশনের বাইরে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে সরকারের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যক্তিগত গাড়িও রিকুইজিশন করা যেতে পারে, যা কোনো ব্যত্যয় নয়।
ডিএমপি এখনও কিছু নির্দিষ্ট তথ্য যেমন, কোন এলাকা থেকে গাড়ি রিকুইজিশন করা হবে, বিজ্ঞপ্তি কতদিন আগে দিতে হবে এবং ক্ষতিপূরণের হিসাব কীভাবে করা হবে—এগুলো চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করেনি। তবে নির্বাচনকালীন যানবাহনের প্রস্তুতি পুরোপুরি নিশ্চিত করতে এই রিকুইজিশন কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।