খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 23শে মাঘ ১৪৩২ | ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বপ্রস্তুতি চলমান। মোট ভোটার ৪,২৩,৩৩১ জন, যেখানে পুরুষ ২,১২,৮৬৯ ও নারী ২,১০,৪৬১ জন। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী। যদিও আওয়ামী লীগ এবার সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে না, তবুও তাদের বিপুলসংখ্যক সমর্থক এখানকার নির্বাচনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত।
গত ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা সর্বাধিক ছয়বার জয়লাভ করেছেন। জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা দু’বার করে জিতেছেন, আর বিএনপি কেবল ১৯৭৯ সালে একবার জয়লাভ করে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী ছিলেন জামায়াতের প্রার্থী, ১৯৯৬ সালের জুনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবং ২০০১ সালে বিএনপি সমর্থিত জামায়াতের প্রার্থী। পরবর্তী সব নির্বাচনে শেষ হাসি ছিল আওয়ামী লীগের।
| বছর | জয়ী দল/প্রার্থী | মন্তব্য |
|---|---|---|
| 1979 | বিএনপি | প্রথম জয় |
| 1991 | জামায়াত | এরশাদের পতনের পর |
| 1996 | আওয়ামী লীগ | জুন নির্বাচন |
| 2001 | জামায়াত | বিএনপি সমর্থনসহ |
| ২০০৮–২০১৮ | আওয়ামী লীগ | ধারাবাহিক জয় |
অতীতের ভোটের ধারা অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের প্রায় ৪০–৪২ শতাংশ ভোট সাধারণত নিশ্চিত ছিল।
এই আসনের দুই উপজেলার ভোটারদের ধারণা অনুযায়ী, এবারও জয়-পরাজয়ের মূল নির্ধারক হবে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট। তাই সব প্রার্থীই তাদের দৃষ্টি সেখানে কেন্দ্রিত করছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবুল কালাম আজাদ নির্বাচনী প্রচারের শুরুর দিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছিলেন। প্রথম দিকে তার প্রভাব দেখা গেলেও শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে। বিএনপির প্রার্থী এস. এম. মনিরুল হাসান বাপ্পি (ধানের শীষ) পাইকগাছা সরকারি কলেজ মাঠে ৩ ফেব্রুয়ারি সমাবেশ করেছেন।
কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী প্রশান্ত কুমার মণ্ডল জানান, “আওয়ামী লীগের ভোটাররা এবার ভাসমান। সেই ভাসমান ভোটই নির্ধারণ করবে জয়-পরাজয়।” এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আছাদুল্লাহ ফকির ও জাতীয় পার্টির মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীরও প্রতিদ্বন্দ্বী।
ভোটের শেষ মুহূর্তে প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন।
জামায়াতের স্থানীয় নেতারা নিশ্চিত করেছেন, আওয়ামী লীগের সমর্থকরা স্বাভাবিকভাবে ভোট দেবেন।
বিএনপির পদক্ষেপ অনুযায়ী, এবার তারা আলাদা নির্বাচন পরিচালনা করছে, ফলে সমর্থকসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর কয়রা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শেখ মনিরুজ্জামান বলেন, “এবার নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রার্থীরা নিশ্চিত করতে চাইছেন যে, আওয়ামী লীগের নিশ্চুপ সমর্থকরা সক্রিয়ভাবে ভোটে অংশ নেবে।”
এই নির্বাচনে মূল লড়াই ধানের শীষ ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, তবে ভাসমান ভোটের ওপর পুরো আসনের রাজনৈতিক চিত্র নির্ভর করছে।