খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ, রূপা, অপরিশোধিত তেল এবং তামাসহ প্রধান কয়েকটি পণ্যের দাম বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সাম্প্রতিক ফোনালাপ এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের সম্ভাব্য বৈঠকের খবরের কারণে বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা শিথিল হয়েছে। এর প্রভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ থেকে বিনিয়োগকারীরা সরে আসতে শুরু করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে বড় দরপতন হয়েছে রুপার, যা প্রায় ১৫ শতাংশ নেমেছে। স্বর্ণ, অপরিশোধিত তেল এবং তামার দাম গড়ে প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। মার্কিন ডলার শক্তিশালী হওয়ায় পণ্যবাজারে বিক্রির চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে, কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম প্রাথমিকভাবে ডলারে নির্ধারিত হয়।
ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান আইজি’র বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, “চলতি সপ্তাহে মূল্যবান ধাতু এবং অন্যান্য প্রধান পণ্যের অস্বাভাবিক দামের ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমান পতন সেই অস্থিরতারই ধারাবাহিক প্রতিক্রিয়া।”
তেল বাজারের দামে পতনের কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য পুনঃআলোচনার ইঙ্গিতকে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ফোনালাপের পরে বাণিজ্য উত্তেজনা কমায় স্বর্ণের বিক্রি বেড়েছে।
ডলারও এই অবস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের আগে এশীয় লেনদেনে ডলার স্থিতিশীল ছিল। ডলার সূচক দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি রয়েছে। শক্তিশালী ডলার অন্য মুদ্রায় বিনিয়োগকারীদের জন্য পণ্য কেনা ব্যয়বহুল করছে, যা দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এদিকে, তামার বাজারে চাপ অব্যাহত রয়েছে। চাহিদা নিয়ন্ত্রণ, লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জের মজুত বৃদ্ধির খবর এবং বাজারে তারল্য কম থাকায় দরপতন আরও তীব্র হচ্ছে। ওয়ান্থন ওসিবিসি ব্যাংকের কৌশলবিদ ক্রিস্টোফার ওং বলেন, “বাজারে সরবরাহ সীমিত থাকায় একটি খাতে বিক্রি শুরু হলেই তা দ্রুত অন্যান্য খাতেও ছড়িয়ে পড়ে।”
অন্যদিকে, সয়াবিনের দাম দুই মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্য—চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানির বিষয় বিবেচনা করছে—বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। লৌহ আকরিকের দাম অতিরিক্ত মজুতের কারণে প্রায় ২ শতাংশ কমেছে।
নীচের টেবিলে বিভিন্ন পণ্যের দাম পরিবর্তনের সংক্ষিপ্ত চিত্র দেওয়া হলো:
| পণ্য | দাম পরিবর্তন (%) | মন্তব্য |
|---|---|---|
| রূপা | -১৫ | সবচেয়ে বড় পতন |
| স্বর্ণ | -২ | বিনিয়োগকারীর বিক্রি বৃদ্ধি |
| অপরিশোধিত তেল | -২ | ইরান–যুক্তরাষ্ট্র বৈঠকের প্রভাব |
| তামা | -২ | চাহিদা কম এবং মজুত বৃদ্ধি |
| লৌহ আকরিক | -২ | অতিরিক্ত মজুতের কারণে পতন |
| সয়াবিন | +৫ | চীন–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য প্রত্যাশায় বৃদ্ধি |
এভাবে, বৈশ্বিক বাজারে পণ্যের দামে ঊর্ধ্বপতন ও নিম্নপতন এক সঙ্গে ঘটছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান এবং শক্তিশালী ডলার এই দামের ওঠানামার প্রধান কারণ।