খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 26শে মাঘ ১৪৩২ | ৮ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বর্তমান বিশ্বে পুরুষদের স্বাস্থ্যঝুঁকির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রোস্টেট ক্যানসার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এটি পুরুষদের মধ্যে শনাক্ত হওয়া ক্যানসারগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। একসময় দক্ষিণ এশিয়ায় এই রোগের প্রকোপ কম থাকলেও বর্তমানে বাংলাদেশে এর হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং আধুনিক রোগ নির্ণয় পদ্ধতির সহজলভ্যতা এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, রোগের বিস্তার যে হারে বাড়ছে, সেই তুলনায় সচেতনতা ও চিকিৎসা অবকাঠামো এখনো পর্যাপ্ত নয়।
প্রোস্টেট হলো পুরুষ প্রজননতন্ত্রের একটি ছোট গ্রন্থি, যা মূত্রথলির নিচে অবস্থিত। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই গ্রন্থির কোষগুলো অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলে ক্যানসার সৃষ্টি হতে পারে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ জনপদে এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে অনেক রোগী যখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন, তখন ক্যানসারটি শরীরের অন্যান্য অংশে, বিশেষ করে হাড় বা মেরুদণ্ডে ছড়িয়ে পড়ে। অথচ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে এই রোগ থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
গত এক দশকে বাংলাদেশে প্রোস্টেট ক্যানসার শনাক্তকরণে প্রভুত উন্নতি হয়েছে। আগে কেবল বড় শহরগুলোতে এই সুবিধা থাকলেও এখন জেলা শহরগুলোতেও পিএসএ (PSA) পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে। রোগ নির্ণয়ের প্রধান ধাপগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
| বিষয়ের নাম | বিস্তারিত তথ্য ও লক্ষণসমূহ |
| প্রাথমিক লক্ষণ | প্রস্রাবে বাধা, বারবার প্রস্রাব হওয়া (বিশেষ করে রাতে) এবং প্রস্রাব শেষে অপূর্ণতার অনুভূতি। |
| উন্নত লক্ষণ | প্রস্রাব বা বীর্যের সাথে রক্ত আসা, তলপেটে বা পিঠের নিচের দিকে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা। |
| জটিল পর্যায় | হাড়ের ব্যথা (বিশেষ করে মেরুদণ্ড বা কোমরে), ওজন কমে যাওয়া এবং অত্যাধিক ক্লান্তি। |
| ল্যাব পরীক্ষা | পিএসএ (PSA) ব্লাড টেস্ট, ডিজিটাল রেক্টাল এক্সামিনেশন (DRE)। |
| ইমেজিং প্রযুক্তি | মাল্টি-প্যারামেট্রিক এমআরআই এবং পিএসএমএ পিইটি-সিটি (PSMA PET-CT)। |
| নিশ্চিতকরণ | ট্রাস (TRUS) গাইডেড বায়োপসি ও হিস্টোপ্যাথলজি। |
বাংলাদেশে প্রোস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসায় রেডিওথেরাপি একটি অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে দেশে অত্যাধুনিক লিনিয়ার অ্যাক্সিলারেটর মেশিনের মাধ্যমে টিউমার ধ্বংস করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় মেশিনের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য। বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালগুলোতে দীর্ঘ অপেক্ষমাণ তালিকার কারণে অনেক সময় রোগীর অবস্থা জটিল হয়ে পড়ে। এছাড়া দক্ষ মেডিক্যাল ফিজিসিস্ট এবং রেডিয়েশন অনকোলজিস্টের অভাবও একটি বড় অন্তরায়। উন্নত বিশ্বে এসবিআরটি (SBRT) এর মতো পদ্ধতি ব্যবহার করে খুব অল্প সময়ে কার্যকর চিকিৎসা দেওয়া হলেও বাংলাদেশে এই সুবিধা হাতেগোনা কয়েকটি কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ।
প্রোস্টেট ক্যানসার থেকে বাঁচতে ৫০ বছর বয়সের পর সকল পুরুষের নিয়মিত প্রোস্টেট পরীক্ষা করা উচিত। যদি পরিবারের কারো (বাবা বা ভাই) এই ক্যানসার থাকার ইতিহাস থাকে, তবে ৪০ বছর বয়স থেকেই স্ক্রিনিং শুরু করা জরুরি। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দিতে পারে। প্রাথমিক লক্ষণ দেখা মাত্রই লজ্জিত বা ভীত না হয়ে ইউরোলজি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জীবন বাঁচাতে সহায়ক হতে পারে।