খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে নতুন এক অনন্য অধ্যায় রচনা করলেন চেলসির মিডফিল্ডার কোল পালমার। শনিবার উলভারহ্যাম্পটনের বিপক্ষে ৩–১ গোলের জয়ে একাই তিনটি গোল করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। ম্যাচের ১৩, ৩৫ ও ৩৮ মিনিটে করা এই হ্যাটট্রিক কেবল জয়ের ব্যবধানই বাড়ায়নি, বরং লিগের পরিসংখ্যানে তাঁকে এনে দিয়েছে বিশেষ এক কীর্তির স্বীকৃতি। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান অপটা’র তথ্য অনুযায়ী, প্রিমিয়ার লিগ যুগে তিনটি ভিন্ন ম্যাচের প্রথমার্ধে হ্যাটট্রিক করার কৃতিত্ব এবারই প্রথম কোনো খেলোয়াড় অর্জন করলেন পালমার।
ম্যাচের শুরু থেকেই চেলসির আক্রমণভাগে ছিলেন পালমার-নির্ভরতা স্পষ্ট। প্রথম দুটি গোল আসে স্পট-কিক থেকে। চাপের মুহূর্তেও ঠান্ডা মাথায় নেওয়া দুটি নিখুঁত পেনাল্টি উলভারহ্যাম্পটনের রক্ষণভাগের আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দেয়। এরপর তৃতীয় গোলটি আসে ওপেন প্লে থেকে—মার্ক কুকুরেল্লার নিচু ক্রসে ছয় গজ বক্সের ভেতর থেকে সময়োচিত টাচে বল জালে পাঠান পালমার। তিনটি গোলের মধ্য দিয়ে প্রথমার্ধেই কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়।
এই কীর্তি পালমারের জন্য নতুন নয়। এর আগে এভারটন ও ব্রাইটনের বিপক্ষেও প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। সাধারণত একটি হ্যাটট্রিকই যেখানে বহু ফুটবলারের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকে, সেখানে পালমার তিনবারই তা করে দেখালেন বিরতির আগেই। এতে বোঝা যায়, ম্যাচের শুরুর ভাগে তাঁর সিদ্ধান্ত নেওয়ার গতি, জায়গা খোঁজার বুদ্ধিমত্তা এবং গোল করার মানসিক দৃঢ়তা কতটা কার্যকর।
চেলসির ক্লাব ইতিহাসেও এই হ্যাটট্রিকের গুরুত্ব কম নয়। প্রিমিয়ার লিগে চেলসির হয়ে সর্বোচ্চ হ্যাটট্রিকের মালিক এখন পালমার—চারটি। এই কীর্তির মাধ্যমে তিনি ছাড়িয়ে গেলেন ক্লাবের কিংবদন্তি ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড, দিদিয়ের দ্রগবা ও জিমি ফ্লয়েড হাসেলবাইঙ্ককে, যাঁদের প্রত্যেকের নামের পাশে ছিল তিনটি করে হ্যাটট্রিক। একজন মিডফিল্ডারের এমন গোলক্ষুধা আধুনিক ফুটবলে বিরল উদাহরণ, যা চেলসির আক্রমণভাগে নতুন মাত্রা যোগ করছে।
এই মৌসুমে পালমারের ধারাবাহিকতা চেলসির পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। দলের আক্রমণে তিনি শুধু গোলদাতা নন, বরং সুযোগ তৈরি ও খেলার গতি নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। কোচিং স্টাফের কৌশলে তাঁকে মাঝমাঠ থেকে আক্রমণভাগে ভেসে ওঠার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে, যার সুফল মিলছে গোলের খাতায়। উলভারহ্যাম্পটনের বিপক্ষে পারফরম্যান্স তারই প্রমাণ—পরিকল্পিত আক্রমণ, দ্রুত ট্রানজিশন এবং চাপের মুখে নিখুঁত ফিনিশিং।
| প্রতিপক্ষ | গোলের সময় (মিনিট) | ফলাফল | বিশেষত্ব |
|---|---|---|---|
| এভারটন | প্রথমার্ধে তিন গোল | জয় | প্রথম হাফটাইম হ্যাটট্রিক |
| ব্রাইটন | প্রথমার্ধে তিন গোল | জয় | দ্বিতীয় হাফটাইম হ্যাটট্রিক |
| উলভারহ্যাম্পটন | ১৩, ৩৫, ৩৮ | ৩–১ জয় | তৃতীয় হাফটাইম হ্যাটট্রিক |
এই অর্জনের মধ্য দিয়ে কোল পালমার শুধু একটি ম্যাচ জেতাননি; তিনি নিজের নাম খোদাই করেছেন প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে। ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে চেলসির আধুনিক যুগের সেরা মিডফিল্ডারদের তালিকায় তাঁর নাম আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠছে।