খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে মাঘ ১৪৩২ | ৯ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাকার অবৈধ প্রবাহ এবং ভোট কেনাবেচা রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্বাচনে আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) যেমন—বিকাশ, রকেট, নগদ এবং সব ধরনের ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবার ওপর বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আজ রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জারি করা এক জরুরি প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই বিধিনিষেধ আজ রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (নির্বাচনের দিন) রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। অর্থাৎ টানা ৯৬ ঘণ্টা বা চার দিন সাধারণ গ্রাহকেরা স্বাভাবিক সময়ের মতো লেনদেন করতে পারবেন না। এই সময়ে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (P2P) লেনদেনে বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা আনা হয়েছে।
বিকাশ, রকেট বা নগদের মতো সেবায় একজন গ্রাহক একক লেনদেনে এক হাজার টাকার বেশি পাঠাতে পারবেন না। একইভাবে, ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের (NPSB) আওতাধীন ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা ব্যাংকের নিজস্ব অ্যাপ ব্যবহার করে অন্য কোনো ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। তবে দৈনন্দিন কেনাকাটা বা জরুরি পরিষেবার বিল (বিদ্যুৎ, গ্যাস ইত্যাদি) পরিশোধের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।
এমএফএস ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং লেনদেনের পরিবর্তিত সীমা:
| সেবার ধরন | লেনদেনের সীমা (প্রতিবার) | দৈনিক মোট লেনদেনের সীমা | আইবিএফটি/অ্যাপ ট্রান্সফার |
| বিকাশ/রকেট/নগদ (P2P) | সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা | সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা (১০টি লেনদেন) | প্রযোজ্য নয় |
| ইন্টারনেট ব্যাংকিং | সম্পূর্ণ বন্ধ | সম্পূর্ণ বন্ধ | পুরোপুরি স্থগিত |
| মার্চেন্ট পেমেন্ট | প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী | প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী | স্বাভাবিক থাকবে |
| ইউটিলিটি বিল পরিশোধ | নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী | নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী | স্বাভাবিক থাকবে |
নির্বাচনকালীন সময়ে কোনো প্রকার সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক লেনদেন সংঘটিত হচ্ছে কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ (Close Monitoring) করার জন্য প্রতিটি এমএফএস প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনো আর্থিক অপরাধের আলামত পাওয়া গেলে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানায় অবহিত করতে হবে। এছাড়া প্রতিটি মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে একটি নিজস্ব ‘জরুরি রেসপন্স সেল’ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যারা নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী তথ্য সরবরাহ এবং সহযোগিতা করবে।
নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের সময় ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার আশঙ্কা থাকে। যেহেতু মোবাইল ব্যাংকিং মুহূর্তের মধ্যেই সম্পন্ন করা যায়, তাই বড় অঙ্কের অবৈধ অর্থ লেনদেনের পথ বন্ধ করতেই এই সীমাবদ্ধতা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপের ফলে সাধারণ মানুষ কিছুটা ভোগান্তিতে পড়লেও নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে একে অপরিহার্য বলে মনে করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জনগণের স্বাভাবিক প্রয়োজন মেটাতে এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা হতে পারে, তবে ডিজিটাল মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ স্থানান্তর বন্ধ রাখাই এই প্রজ্ঞাপনের মূল লক্ষ্য।