খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 28শে মাঘ ১৪৩২ | ১০ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত গণভোটের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য এই দ্বৈত ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এক কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। সোমবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত ইসির এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে নির্বাচনী এলাকায় সব ধরনের জনসভা, মিছিল ও শোভাযাত্রা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) সংশ্লিষ্ট ধারা এবং নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে যাবতীয় আনুষ্ঠানিক প্রচারণা বন্ধ রাখার বিধান রয়েছে। যেহেতু আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হবে, সেই হিসেবে ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটাই হচ্ছে প্রচারণার শেষ সময়। এই বিধিনিষেধ কেবল ভোটগ্রহণের পূর্ববর্তী সময় নয়, বরং ভোট পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
এবারের নির্বাচনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই দিনে ভোটাররা যেমন তাদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত করবেন, তেমনি ‘জুলাই জাতীয় সনদের’ সংবিধান-সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে নিজেদের মতামত দেবেন গণভোটের মাধ্যমে। এই দ্বিমুখী ভোটপ্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরাপদ রাখতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।
নির্বাচন ও প্রচারণার সময়সূচি এক নজরে:
| বিষয় | নির্ধারিত সময় ও তারিখ |
| নির্বাচনী প্রচারণা শেষ | ১০ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার (সকাল ৭:৩০ মিনিট) |
| ভোটগ্রহণ শুরু | ১২ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার (সকাল ৭:৩০ মিনিট) |
| ভোটগ্রহণ সমাপ্তি | ১২ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার (বিকেল ৪:৩০ মিনিট) |
| নিষেধাজ্ঞা শেষ | ১৪ ফেব্রুয়ারি, শনিবার (বিকেল ৪:৩০ মিনিট) |
| নিষেধাজ্ঞার আওতা | জনসভা, মিছিল, শোভাযাত্রা ও সব ধরনের প্রচার |
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল থেকে দেশের নির্বাচনী এলাকাগুলোতে বিজিবি, র্যাব এবং পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভোটারদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যাতায়াত নিশ্চিত করতে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন থাকছে সশস্ত্র বাহিনী। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি জারিকৃত এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সভা-সমাবেশ বা মিছিল করার চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ইসি সচিবালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটগ্রহণের দিন সাধারণ ছুটি বলবৎ থাকবে। এছাড়া মোটরসাইকেলসহ নির্দিষ্ট কিছু যানবাহনের চলাচলের ওপরও সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন আশা প্রকাশ করছে যে, সকল রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীরা আচরণবিধি মেনে চলে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে সহায়তা করবেন। জনমনে আস্থা ফেরাতে এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দিয়ে মাঠে নামানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, প্রচারণার শেষ সময়ে প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে শেষ মুহূর্তের সংযোগ সেরে নিয়েছেন। এখন অপেক্ষার পালা বৃহস্পতিবারের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের, যখন ব্যালটের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে আগামীর বাংলাদেশ।