খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 28শে মাঘ ১৪৩২ | ১০ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
চট্টগ্রামের অক্সিজেন এলাকায় অবস্থিত একটি কারখানায় মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণে ১১ জন শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। এটি একটি বয়লার কক্ষে সংঘটিত হয়, যেখানে তরলজাত পণ্যের জন্য বোতল প্রস্তুত করার কাজ চলছিল।
ফায়ার সার্ভিসের সূত্র জানায়, খবর পেয়ে নগরের বায়েজিদ এবং কালুরঘাট ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আধা ঘণ্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়ে বিস্ফোরণ ঘটে।
কারখানা কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় আহত শ্রমিকদের দ্রুত উদ্ধার করা হয় এবং তাদের কারখানার নিজস্ব হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে ৮ জন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ৩ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। আহতদের মধ্যে একাধিকের দগ্ধের মাত্রা তীব্র হলেও তাদের অবস্থার স্থিতিশীলতা চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন।
এই দুর্ঘটনার কারণে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পুনরায় বিস্ফোরণ রোধে সতর্কতা অবলম্বন করেছে।
ফায়ার সার্ভিসের একটি কর্মকর্তা বলেন, “প্রাথমিকভাবে আমরা মনে করছি, বৈদ্যুতিক সংযোগের ত্রুটি এবং সঠিকভাবে সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।”
নিম্নে আহতদের চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য একটি টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| ক্রমিক | আহত শ্রমিক সংখ্যা | চিকিৎসার ধরন | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|---|
| ১ | ৮ | প্রাথমিক চিকিৎসা | বাড়ি ফেরা |
| ২ | ৩ | হাসপাতালে ভর্তি | চিকিৎসাধীন |
| মোট | ১১ | – | – |
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিস্ফোরণের শব্দ পুরো এলাকায় শোনা যায় এবং আশেপাশের কর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান। প্রশাসন এবং কারখানা কর্তৃপক্ষ এই ধরনের দুর্ঘটনা পুনরায় ঘটার সম্ভাবনা রোধে জরুরি তদারকি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
চট্টগ্রামে শিল্প কারখানার ক্ষেত্রে আগের মতো নিরাপত্তা মানদণ্ড যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তাই স্থানীয় প্রশাসন এবং শিল্প মালিকদের মধ্যে সমন্বিত তদারকি ও কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।