খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, ভোট সম্পর্কিত বিরোধের জেরে এই তাণ্ডব চালিয়েছেন স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, বিএনপির প্রার্থী মাওলানা মনজুরুল ইসলাম আফেন্দীর ছোট ভাইয়ের একটি প্রাইভেট গাড়ি রাস্তার পাশে বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। গাড়ি মেরামতের সময় মোটরসাইকেলবাহী জামায়াত কর্মীরা সেখানে এসে হঠাৎ আক্রমণাত্মক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা তাদের ওপর চড়াও হন এবং কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন।
স্থানীয়রা বলছেন, “আফেন্দীর ছোট ভাই ভোট চাইতে আসেননি, তারপরও আমাদের সঙ্গে এমন আচরণ কেন করা হলো? আমাদের ঘরে আগুন দিয়েছে। ভোটে জিতলে জামায়াত কি আরও কি করবে?” এক আরেকজন বলেন, “সংখ্যালঘুরা কাকে ভোট দেবে তা তাদের নিজের সিদ্ধান্ত। কিন্তু জামায়াত আমাদের ভোটের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে চাচ্ছে।”
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ডিমলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. রওশন কবির পুলিশ ও বিজিবি নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশ দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হামলায় অন্তত ৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহত হয়েছেন কয়েকজন স্থানীয়। স্থানীয় নেতারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য প্রশাসনের আরও সহায়তা চেয়েছেন।
নিচের টেবিলে সংক্ষিপ্তভাবে হামলার পরিস্থিতি তুলে ধরা হলো:
| স্থান | ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি | আহত ব্যক্তি | হামলার কারণ (প্রাথমিক অভিযোগ) |
|---|---|---|---|
| ডোমার, নীলফামারী-১ | ৫ | ৩ | ভোট বিরোধ, সংখ্যালঘুদের ভয়ভীতি প্রদর্শন |
| ডিমলা, নীলফামারী-১ | ২ | ১ | ভোট সমর্থন নিয়ে সংঘর্ষ |
স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, এই হামলা শুধু প্রতিশোধমূলক নয়, বরং সংখ্যালঘুদের ভোটের স্বাধীনতা হরণের উদ্দেশ্যেও করা হয়েছে। তারা প্রশাসন এবং সমাজের সব স্তরের সাহায্য কামনা করছেন।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোও উদ্বিগ্ন, এবং নাগরিকদের ভোটাধিকার রক্ষা করার জন্য তৎপর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং নির্বাচনী সহিংসতা রোধে প্রশাসনের তৎপরতা এখন জরুরি হয়ে উঠেছে।