খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব দেশ ছেড়েছেন বলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় দেশের বেশ কিছু গণমাধ্যমে তার দেশত্যাগের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় নানা জল্পনা-কল্পনা। সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এবং নতুন সংসদের শপথ গ্রহণের প্রাক্কালে তার এই আকস্মিক প্রস্থানকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
দেশত্যাগের বিষয়ে নিশ্চিত হতে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। তবে পরবর্তীতে খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, “আমি গত ৯ ও ১০ তারিখেই অফিস থেকে বিদায় নিয়েছি। মন্ত্রণালয় থেকে আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে (ফরমালি) বিদায় জানানো হয়েছে।” তবে তিনি বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন বা সত্যিই দেশ ছেড়েছেন কি না, সেই সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের কোনো উত্তর তিনি দেননি।
এদিকে, তার ঘনিষ্ঠ একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আজ শনিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেই তিনি দেশের বাইরে চলে গেছেন। উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব মূলত একজন প্রযুক্তি বিশ্লেষক ও লেখক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের নভেম্বরে তাকে আইসিটি পলিসি অ্যাডভাইজার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তার কাজের পরিধি বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০২৫ সালের ৫ মার্চ তাকে প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী নিযুক্ত করা হয়। তবে তার এই দীর্ঘ ক্যারিয়ার একেবারে নিষ্কন্টক ছিল না। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে একটি সরকারি প্রকল্পে যন্ত্রপাতি কেনার প্রক্রিয়া এবং দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) প্রভাবিত করার চেষ্টার অভিযোগে তিনি ব্যাপক সমালোচিত হন।
নিচে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের পদমর্যাদা ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলির একটি সংক্ষিপ্ত সারণি দেওয়া হলো:
| সময়কাল | পদমর্যাদা/ঘটনা | প্রাসঙ্গিক তথ্য |
| নভেম্বর ২০২৪ | আইসিটি পলিসি অ্যাডভাইজার | অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে প্রথম যোগদান |
| ৫ মার্চ ২০২৫ | প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী | প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় পদোন্নতি |
| জুলাই ২০২৫ | দুদকের অনুসন্ধান ও বিতর্ক | প্রকল্পে যন্ত্রপাতি কেনায় অনিয়মের অভিযোগ |
| ৯-১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | মন্ত্রণালয় থেকে বিদায় | দাপ্তরিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি |
| ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | দেশত্যাগের খবর | শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে প্রস্থান (সূত্র মতে) |
ফয়েজ আহমদের এই বিদায় এমন এক সময়ে ঘটছে যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের শেষ সময় পার করছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। আগামী মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে। ক্ষমতা হস্তান্তরের এই ক্রান্তিলগ্নে একজন প্রভাবশালী বিশেষ সহকারীর দেশত্যাগের খবরটি জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে দুদকের তদন্তাধীন অভিযোগের সুরাহা হওয়ার আগেই তার প্রস্থান আইনি প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।
বর্তমানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতা পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের এমন আকস্মিক প্রস্থান প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ।