সিলেট শহরের পাঠানটুলা এলাকায় অবস্থিত তারাপুর চা-বাগানের গৌরনিতাই মন্দিরে আজ রোববার ভোরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়া যায় সকাল সাতটার দিকে স্থানীয়রা মন্দিরের ভেতরের ধোঁয়া এবং ভস্মীভূত অংশ দেখতে পান। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে চা-শ্রমিক, স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপির নেতা–কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, টুকেরবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান (শফিক), স্থানীয় বাসিন্দা সজীব খান, আফসর খান সহ অন্যান্য নেতা–কর্মী। তারা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
মন্দিরের ভেতরে বাঁশ ও টিন দিয়ে তৈরি স্থাপনার অংশসহ কৃষ্ণের ছবি, গীতা, প্রণামীর টাকা এবং বিভিন্ন পূজার উপকরণ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মন্দির পঞ্চায়েতের সাধারণ সম্পাদক সুনীল মোদী জানান, এখনও কে বা কারা এই আগুন দিয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রায় তিন বছর আগে স্থাপিত এই মন্দিরটি তারাপুর চা-বাগানের চা-শ্রমিকদের জন্য নিয়মিত পূজা-অর্চনার কেন্দ্রবিন্দু। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, এ ঘটনা তাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনা তারিখ | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (রোববার) |
| সময় | ভোর ৭টা |
| স্থান | তারাপুর চা-বাগান, পাঠানটুলা, সিলেট সদর, সিলেট |
| ক্ষতিগ্রস্ত | মন্দিরের বাঁশ–টিন কাঠামো, কৃষ্ণের ছবি, গীতা, প্রণামীর টাকা, পূজার উপকরণ |
| পরিদর্শক | রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, শফিকুর রহমান, সজীব খান, আফসর খান, পুলিশ |
| মন্দির স্থাপন | প্রায় ৩ বছর আগে |
| থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা | ওসি শাহ মুবাশ্বির আলী |
বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ মুবাশ্বির আলী জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।
বিএনপি নেতা রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এ ঘটনা সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন, “মাত্র নির্বাচন শেষ হয়েছে। দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতি বজায় রাখতে এই ধরনের অশান্তিকর ঘটনা অনুমোদনযোগ্য নয়। যারা এটি করেছে, তাদের আইনের আওতায় আনা আবশ্যক।”
চা-শ্রমিক ও স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত ও শাস্তির দাবিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মোটকথা, সিলেটের পাঠানটুলা এলাকার এই অগ্নিকাণ্ডে মন্দির, ধর্মগ্রন্থ ও পূজার উপকরণ পুড়ে যাওয়ায় স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন। পুলিশ ও প্রশাসন সক্রিয়ভাবে তদন্ত চালাচ্ছে, যাতে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা যায়।