আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়লেন আফগানিস্তানের তারকা লেগ স্পিনার রশিদ খান। বিশ্বের প্রথম বোলার হিসেবে এই সংস্করণে ২০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে একটি উইকেট শিকারের মধ্য দিয়ে অনন্য এই কীর্তি গড়েন আফগানিস্তানের এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয় আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। ম্যাচটি শুধু আফগানিস্তানের জয় কিংবা সিরিজ নিশ্চিত করার জন্যই স্মরণীয় হয়ে থাকেনি, রশিদ খানের ব্যক্তিগত অর্জনের কারণেও পেয়েছে বিশেষ গুরুত্ব।
ম্যাচ শুরুর আগে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২০০ উইকেট পূর্ণ করতে রশিদের প্রয়োজন ছিল মাত্র একটি উইকেট। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে জিম্বাবুয়ের ইনিংসে। উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান তাদিওয়ানাশে মারুমানিকে আউট করে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লেখান আফগান এই লেগ স্পিনার।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে রশিদ খানের ধারাবাহিক সাফল্য দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার বিষয়। গতির পরিবর্তন, নিখুঁত লাইন-লেন্থ এবং দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেও তিনি অন্যতম চাহিদাসম্পন্ন বোলার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও তাঁর বোলিং প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের জন্য নিয়মিত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিশেষ করে মাঝের ওভারগুলোতে উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষের রানের গতি আটকে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা আলাদা করে উল্লেখ করার মতো।
ব্যাট হাতে ওমরজাইয়ের বিধ্বংসী ইনিংস
রশিদের ব্যক্তিগত মাইলফলকের পাশাপাশি ম্যাচটিতে আফগানিস্তানের জয়ের পেছনে বড় অবদান ছিল আজমতুল্লাহ ওমরজাইয়ের। টসের পর প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ভয়াবহ বিপর্যয়ে পড়ে আফগানিস্তান। মাত্র ৫ রানের মধ্যে চারটি উইকেট হারিয়ে বড় চাপে পড়ে যায় দলটি।
এমন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন ওমরজাই। শুরুতে সতর্ক থাকলেও পরে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে জিম্বাবুয়ের বোলারদের ওপর চড়াও হন তিনি। মাত্র ৫০ বলে ১১৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন এই আফগান অলরাউন্ডার। তাঁর ইনিংসে ছিল দ্রুত রান তোলার অসাধারণ দক্ষতা এবং প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণকে চাপে ফেলার সক্ষমতা।
অন্য প্রান্তে তাঁকে দারুণভাবে সহযোগিতা করেন ইজাজ আহমেদজাই। দুজনের মধ্যে মাত্র ৫৯ বলে ১৪২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ওঠে। এই জুটিই আফগানিস্তানকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে এবং বড় সংগ্রহের ভিত তৈরি করে দেয়।
শেষ দিকে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন অধিনায়ক রশিদ খানও। মাত্র ৬ বলে ২৫ রান করে দলের সংগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ২২১ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় আফগানিস্তান।
লড়াই করেও জিততে পারেনি জিম্বাবুয়ে
২২২ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই পাল্টা লড়াইয়ের চেষ্টা করে জিম্বাবুয়ে। অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ব্যাট হাতে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখান। ৫৬ বলে অপরাজিত ১০৬ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেও দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে পারেননি তিনি।
রাজার ব্যাটিংয়ে জিম্বাবুয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও অন্য প্রান্ত থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাননি তিনি। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ২০২ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় দলটি।
ফলে ১৯ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আফগানিস্তান। এই জয়ের মধ্য দিয়ে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নেয় আফগানরা।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি
রশিদ খানের ২০০ উইকেটের মাইলফলক তাঁকে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বোলারদের তালিকায় অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। প্রদত্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিদের তালিকায় তাঁর পরের অবস্থানেও রয়েছেন অভিজ্ঞ কয়েকজন বোলার।
1. রশিদ খান (আফগানিস্তান) — ১২০ ম্যাচে ২০০ উইকেট।
2. আদিল রশিদ (ইংল্যান্ড) — ১৫৩ ম্যাচে ১৭১ উইকেট।
3. এহসান খান (হংকং) — ১১৯ ম্যাচে ১৬৫ উইকেট।
4. ইশ সোধি (নিউজিল্যান্ড) — ১৪২ ম্যাচে ১৬৫ উইকেট।
5. টিম সাউদি (নিউজিল্যান্ড) — ১২৬ ম্যাচে ১৬৫ উইকেট।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করা নিঃসন্দেহে একজন বোলারের দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতা, দক্ষতা ও কার্যকারিতার প্রতিফলন। রশিদ খানের এই অর্জন আফগান ক্রিকেটের জন্যও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তুলনামূলকভাবে কম বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠা পাওয়া এই লেগ স্পিনার নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে আফগানিস্তানের অবস্থান আরও দৃঢ় করেছেন।
ব্যাট-বল দুই বিভাগেই তাঁর অবদান আফগানিস্তানকে প্রতিযোগিতামূলক দল হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ জয় এবং ব্যক্তিগত মাইলফলক—দুই অর্জন মিলিয়ে শারজাহর ম্যাচটি রশিদের ক্যারিয়ারে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সম্পাদনা-সংক্রান্ত তথ্যগত সতর্কতা: মূল প্রতিবেদনের শুরুতে রশিদের ৭০০ টি-টোয়েন্টি উইকেটের কথা বলা হয়েছে, আবার পরবর্তী অংশে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২০০ উইকেটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দুটি পরিসংখ্যানের ক্ষেত্র এক নয়। এ ছাড়া ১২০ ম্যাচে ২০০ উইকেটের দাবিটির সঙ্গে ৭০০ উইকেটের দাবির সম্পর্কও স্পষ্ট নয়। তাই বিভ্রান্তি এড়াতে মূল প্রতিবেদনের সবচেয়ে সুস্পষ্ট মাইলফলক—আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২০০ উইকেট—কেন্দ্র করে প্রতিবেদনটি সাজানো হয়েছে। প্রকাশের আগে ম্যাচের তারিখ, বয়স ও পরিসংখ্যান নির্ভরযোগ্য স্কোরকার্ড দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।


