খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 13শে মাঘ ১৪৩২ | ২৬ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বাগদা বাজার এলাকায় পুলিশ অভিযান চলাকালীন পুলিশের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সরকারি নিষিদ্ধ ঘোষিত উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতাকে গ্রেফতার করতে গিয়ে স্থানীয় কিছু উগ্র নেতা ও কর্মীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাতভর এই ঘটনায় গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ ও অতিরিক্ত বাহিনী অভিযানে নামে এবং ছয়জনকে গ্রেফতার করে। মূল আসামি এখনও গ্রেফতার হয়নি।
গ্রেফতারকৃতদের তালিকা:
| নাম | পরিচিতি / মন্তব্য |
|---|---|
| নুরুজ্জামান মিয়া | স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সমর্থক |
| মানিক মিয়া | হামলায় সরাসরি যুক্ত |
| সুজন মিয়া | হামলায় অংশগ্রহণকারী |
| মোঃ তাজুল | হামলাকারীদের মধ্যে একজন |
| হাবিবুর রহমান | হামলায় সরাসরি জড়িত |
| সামিউল ইসলাম | পুলিশে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত |
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান জোবায়ের হাসান শফিক মাহমুদ গোলাপকে গ্রেফতার করার জন্য গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় স্থানীয় নেতা ও তার সমর্থকরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা পুলিশ বাহিনীর দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।
এই সংঘর্ষে গোবিন্দগঞ্জ থানার এসআই সেলিম রেজা, মীর কায়েস এবং মমিনুল হক আহত হন। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, রাতেই হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। যদিও মূল আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি, গ্রেফতারকৃত ছয়জনকে সোমবার গাইবান্ধা আদালতে পাঠানো হয়েছে। ওসি আরও জানান, “প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে দ্রুত মূল হোতাদের গ্রেফতার করা হবে। এ ধরনের আচরণ আইনত দণ্ডনীয়।”
স্থানীয়রা বলছেন, এই ধরনের সহিংসতা শান্তিপ্রিয় এলাকায় শঙ্কার সৃষ্টি করেছে। পুলিশ ও প্রশাসন এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে।
ঘটনাটি গোবিন্দগঞ্জের রাজনৈতিক উত্তেজনার মাত্রা আরও বৃদ্ধি করেছে। রাজনৈতিক নেতারা বিষয়টি সমাধানের জন্য বৈঠক ডাকার প্রস্তাব দিয়েছেন, যাতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন নিরাপদ থাকে।