খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে হোটেলের স্নানাগারে নারী অতিথিদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত গোপনে ভিডিও করার মতো গুরুতর ও স্পর্শকাতর অভিযোগ উঠেছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কলম্বোর নারাহেনপিতা পুলিশ অভিযুক্ত দুই ক্রিকেটারকে গ্রেপ্তার করেছে। পরবর্তীতে তাদের আলুতকাদে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জামিন মঞ্জুর করা হয়। লঙ্কান ক্রিকেটের প্রশাসনিক অস্থিরতার মাঝে বয়সভিত্তিক দলের খেলোয়াড়দের এমন আচরণ দেশটির ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মাধ্যম ইএসপিএনক্রিকইনফোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত হয় চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে। কলম্বোর নারাহেনপিতা এলাকার একটি অভিজাত হোটেলে অবস্থান করছিলেন শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কয়েকজন ক্রিকেটার। একই হোটেলে অবস্থানরত কয়েকজন নারী অতিথি অভিযোগ করেন যে, তারা যখন স্নানাগারে ছিলেন, তখন বাইরে থেকে মুঠোফোনের মাধ্যমে গোপনে তাদের ভিডিও ধারণ করা হচ্ছিল।
বিষয়টি টের পাওয়ার পরপরই ভুক্তভোগী নারীরা হোটেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় পুলিশকে অবহিত করেন। নারাহেনপিতা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পায় এবং জড়িত সন্দেহে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দুই ক্রিকেটারকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃত দুই ক্রিকেটারকে কলম্বোর আলুতকাদে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। আদালত শুনানি শেষে তাদের ৫ লাখ শ্রীলঙ্কান রুপি মূল্যের বন্ডের বিনিময়ে জামিন প্রদান করেন। তবে জামিন পেলেও মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আগামী ২৫ মে এই চাঞ্চল্যকর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।
শ্রীলঙ্কা পুলিশ বর্তমানে প্রযুক্তিগত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের প্রধান লক্ষ্য হলো—অভিযুক্তদের মুঠোফোন থেকে ধারণকৃত সেই ভিডিওগুলো কোনো পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করা। ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য জব্দকৃত মুঠোফোনগুলো বিশেষজ্ঞ প্যানেলের কাছে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তরা যাতে তদন্তে ব্যাঘাত ঘটাতে না পারে কিংবা দেশত্যাগ করতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এই লজ্জাজনক ঘটনা এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এল যখন শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি) চরম প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বোর্ডের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দুর্নীতির অভিযোগে শাম্মি সিলভার নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত কমিটিকে দেশটির সরকার অপসারণ করেছে। এর পরিবর্তে বোর্ডের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি বিশেষ ‘ট্রান্সফরমেশন কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।
প্রশাসনিক এই টালমাটাল পরিস্থিতির কারণে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটারদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে এখন পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে লঙ্কান ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, বয়সভিত্তিক দলের ক্রিকেটারদের এই নৈতিক স্খলন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বোর্ড পুনর্গঠনের এই প্রক্রিয়ার মধ্যে এমন ঘটনা নতুন করে শৃঙ্খলার অভাবকেই ফুটিয়ে তুলছে।
শ্রীলঙ্কার বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং অনুমতি ব্যতীত ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করা একটি গুরুতর অপরাধ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এই দুই তরুণ ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার চিরতরে শেষ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তাদের কঠোর কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে। স্থানীয় সচেতন মহল এবং ক্রিকেট ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন।
বোর্ড সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বয়সভিত্তিক পর্যায়ের খেলোয়াড়দের জন্য কঠোর আচরণবিধি (Code of Conduct) এবং নৈতিক শিক্ষা প্রদানের অভাবই এই ধরণের ঘটনার মূল কারণ। ট্রাস্ট গঠন বা ট্রান্সফরমেশন কমিটির জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা।