খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১১ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় এক নৈশভোজে ভারতের বিরুদ্ধে পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, যদি পাকিস্তান অস্তিত্বের সংকটে পড়ে, তবে তারা ‘অর্ধেক বিশ্বকে সঙ্গে নিয়ে ডুববে’। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বসে তৃতীয় কোনো দেশের বিরুদ্ধে এটাই প্রথম কোনো দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার দেওয়া পরমাণু হুমকি।
ফ্লোরিডার টাম্পায় পাকিস্তানি ব্যবসায়ী আদনান আসাদের আয়োজনে গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে এই নৈশভোজে বক্তব্য দেন মুনির। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য প্রিন্ট জানায়, অতিথিদের মোবাইল ফোন বা কোনো ডিজিটাল ডিভাইস নিয়ে প্রবেশের অনুমতি ছিল না। প্রতিবেদনটি কয়েকজন অতিথির বর্ণনার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।
মুনির মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) বিদায়ী কমান্ডার জেনারেল মাইকেল কুরিল্লার বিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ফ্লোরিডায় যান। তাঁর সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে প্রায় ১২০ জন ফ্লোরিডাভিত্তিক পাকিস্তানি প্রবাসী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর একজন প্রতিনিধিও ছিলেন, যদিও পাকিস্তানের সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। এই সফরের সময় মুনিরকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠকের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়, যেখানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্ট এখনো আমন্ত্রণ পাননি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআনের সুরা আস-সাফের ৪ নম্বর আয়াত পাঠ করা হয়, যেখানে আল্লাহ তাঁর পথে সারিবদ্ধভাবে যুদ্ধ করা লোকদের প্রশংসা করেছেন। এই আয়াতের ভিত্তিতে পাকিস্তান সম্প্রতি ভারতের বিরুদ্ধে চার দিনের যুদ্ধে সামরিক অভিযানের নাম দেয় ‘বুনিয়ানুম মারসুস’ বা সিসা ঢালা প্রাচীর।
মুনির সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়েও মন্তব্য করেন। পেহেলগাম হামলার পর ভারত চুক্তি স্থগিত করে। তিনি বলেন, ভারত যদি চুক্তি বাতিল করে বাঁধ নির্মাণ করে, তবে পাকিস্তান ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র মেরে তা ধ্বংস করবে। তাঁর ভাষায়, “সিন্ধু নদ ভারতের পারিবারিক সম্পত্তি নয়। আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের কোনো অভাব নেই, আলহামদুলিল্লাহ।”
যুদ্ধের প্রসঙ্গে তিনি ভারতের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ না করার সমালোচনা করে বলেন, ভারতীয়দের তাদের পরাজয় স্বীকার করা উচিত। ভারত যদি ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রকাশ করে, তবে পাকিস্তানও নিজেদের তথ্য প্রকাশে রাজি। তিনি বলেন, “আমরা কী করতে পারি তা বোঝাতে সুরা ফিল ও মুকেশ আম্বানির ছবি দিয়ে একটি টুইট করা হয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, “ভারত একটি চকচকে মার্সিডিজ গাড়ির মতো, যা হাইওয়েতে ফেরারি গাড়ির মতো চলছে, কিন্তু আমরা পাথর বোঝাই একটি ডাম্প ট্রাক। যদি ট্রাকটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খায়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত বেশি হবে কে?”
মুনির সামরিক বাহিনীকে রাজনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, যুদ্ধ যেমন শুধু জেনারেলদের জন্য নয়, রাজনীতিও শুধু রাজনীতিবিদদের জন্য নয়। তিনি সাবেক বন্দর ও নৌপরিবহনমন্ত্রী বাবর খান ঘোরিকে লক্ষ্য করে এ মন্তব্য করেন।
ধর্মীয় শিক্ষার কারণে তিনি বক্তব্যে প্রায়ই ধর্মতত্ত্ব ব্যবহার করেন। তাঁর দাবি, মদিনার পর পাকিস্তানই একমাত্র রাষ্ট্র যা ‘কালিমাহ’র ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। আল্লাহ পাকিস্তানকে মদিনার মতোই সম্পদে ভরিয়ে দেবেন বলেও মন্তব্য করেন। তিনি পাকিস্তানে বিরল ধাতু, খনিজ ও হাইড্রোকার্বনের সন্ধান পাওয়ার বিষয়ও উল্লেখ করেন।
মুনির ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উত্তেজনা নিয়েও কথা বলেন। মজা করে তিনি বলেন, পাকিস্তানের উচিত প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় “মাস্টারক্লাস” দেওয়া। তাঁর দাবি, পাকিস্তানের সাফল্যের কারণ হলো তারা কৃপণ নয় এবং ভালো কাজের প্রশংসা করে। এ কারণেই তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছিল।
খবরওয়ালা/টিএসএন