উলভারহ্যাম্পটনের ৪-১ গোলের হার দেখে মনে হতে পারে, এটি আরেকটি সাধারণ পরাজয়। তবে ঘটনায় লুকিয়ে আছে আরও গভীর কাহিনি। এই দলের সমস্যা শুধুমাত্র ফুটবল নয়—তাদের সমস্যা পুরো ক্লাবটিকে ঘিরে। প্রায় ৮ মাস ধরে দল একের পর এক পরাজয় দেখে যাচ্ছে। অর্থনীতিতে টালমাটাল, ট্রান্সফার পলিসি ব্যর্থ, কোচ-ব্যবস্থাপনা দ্বিধায়। সব মিলিয়ে এক ‘অবক্ষয়ের চিত্র’।
ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে থেকেই গ্যালারিতে সমর্থকদের শ্লোগান ছিল ক্লাব মালিক চীনের ফোসুন গ্রুপের বিরুদ্ধে। তাদের দুর্বল নীতিমালা, বিনিয়োগ না করা, ট্রান্সফার সিদ্ধান্তে বিশৃঙ্খলা—সবকিছু মিলিয়ে সমর্থকদের ক্ষোভ ফুঁসে উঠেছে। খেলোয়াড়রা মাঠে নেমেছে আতঙ্ক-অস্থিরতা নিয়ে। লড়াইয়ের শক্তি নেই, প্রতিপক্ষের সুযোগে ঘাবড়ে যায়, আক্রমণ গড়তে ইতস্তত।
৫৪০ মিনিট পর গোল পাওয়ার উল্লাসও এতে কমেনি। বেলেগ্রেড দুর্দান্ত শটে গোল দিলেও তা যেন ডায়ালাইসিসের রোগীর শরীরে এক ফোঁটা গ্লুকোজ। সাময়িক আরাম, কিন্তু চিকিৎসা নয়। ক্লাবের ভাঙন স্পষ্ট। খেলোয়াড়দের মধ্যে সমন্বয় নেই, আত্মবিশ্বাস নেই, গ্যালারিতে সমর্থকদের বিশ্বাস নেই।
প্রশ্ন উঠছে—উলভস কি শুধু ম্যাচ হারছে, নাকি হারাচ্ছে নিজেদের পরিচয়? এ অবস্থায় তাদের সামনে শুধু ফুটবল নয়, গোটা ‘অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই’।



