খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ৫ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলা কবিতার এক নিরন্তর স্রোতধারার নাম মহাদেব সাহা। প্রেম, প্রকৃতি, মানবতা ও অস্তিত্ববোধে নিবিষ্ট এক নিবেদিত কবি, যিনি স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের কাব্যভুবনে স্থাপন করেছেন অনন্য এক উচ্চতা।
রোমান্টিক গীতিকবিতার জন্য বহুলপ্রশংসিত এই কবি পেশাগত জীবনে সাংবাদিক হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন এবং দীর্ঘদিন দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
জন্ম ও শিক্ষাজীবন
কবি মহাদেব সাহার জন্ম ১৯৪৪ সালের ৫ আগস্ট, সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া গ্রামে।
তাঁর পিতার নাম গদাধর সাহা, যিনি ছিলেন একজন সাহিত্যপ্রেমিক মানুষ, আর মায়ের নাম বিরাজা মোহিনী সাহা।
শৈশবেই সাহিত্যচর্চার অনুকূল পরিবেশ পেয়েছিলেন পিতার ঘরে পৌঁছানো মাসিক বসুমতি, দৈনিক লোকসেবক, সাপ্তাহিক অমৃতবাজার পত্রিকার সৌজন্যে।
তিনি বগুড়ার ধুনট হাইস্কুল থেকে ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিকুলেশন এবং আযিযুল হক কলেজ থেকে ১৯৬৪ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সসহ স্নাতক সম্পন্ন করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন।
কাব্য ও কীর্তি
প্রেম, বিচ্ছেদ, আত্মদহন, জীবনানুভব, প্রকৃতি ও সমকালীন বোধ তাঁর কবিতার অনুষঙ্গ। ভাষা ও ভাবনার অভিনবতায় তিনি হয়ে উঠেছেন আমাদের সময়ের একজন বিশিষ্ট কবিকণ্ঠ।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো—
এই গৃহ এই সন্ন্যাস
মানব এসেছি কাছে
চাই বিষ অমরতা
কী সুন্দর অন্ধ
আমি ছিন্নভিন্ন
অস্তমিত কালের গৌরব
এসো তুমি পুরাণের পাখি
তুমিই অনন্ত উৎস প্রভৃতি।
বাংলা সাহিত্যে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলাদেশ সরকারের ‘স্বাধীনতা পুরস্কারে’ ভূষিত হন—যা দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা।
কবির জন্মদিনে হৃদয়ভরা শুভেচ্ছা
এই দিনে তাঁর জন্য রইলো অফুরান শ্রদ্ধা, কবিতাভরা শুভেচ্ছা ও অতল ভালোবাসা।
“এসো তুমি পুরাণের পাখি”—এই অনন্ত আহ্বানের মধ্যে দিয়ে কবিতার চিরকালীন পাখিকে জানাই সম্মানের নিঃশব্দ নতশিরে সম্ভাষণ।
শুভ জন্মদিন প্রিয় কবি মহাদেব সাহা।
আপনার কবিতায় আরও আলো আসুক, ভালোবাসার উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ুক হাজার হৃদয়ে।
খবরওয়ালা/এমএজেড