খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 13শে মাঘ ১৪৩২ | ২৬ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সেই চিরচেনা হাসি, একই ধরনের গোল, গোল উদ্যাপনের একই ভঙ্গিমা—ফুটবলের সাবিনা আর ফুটসালের সাবিনার মধ্যে পার্থক্য শূন্য। ২০২২ সালের সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে বল পায়ে একের পর এক গোল করেছিলেন তিনি। চার বছর পর ফুটসালেও একই সাবিনার দেখা মিলেছে, যেখানে মাঠের আকার, নিয়ম ও খেলোয়াড়ের সংখ্যা ফুটবলের তুলনায় ভিন্ন। তবু সাবিনা আগের মতোই অতুলনীয়।
সাতক্ষীরার এই ক্রীড়াবিদ নিয়মিত গোল করে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নেতৃত্বের দায়িত্বও নিখুঁতভাবে সামলেছেন। ২০২৬ সালের সাফ উইমেন্স ফুটসালের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ মালদ্বীপকে ১৪–২ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতেছে।
সাবিনার ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য ‘প্রথম’গুলোকে সহজে বোঝার জন্য নিচের টেবিলটি দেওয়া হলো:
| বছর | প্রতিযোগিতা | অর্জন | সাবিনার অবদান |
|---|---|---|---|
| 2010 | দক্ষিণ এশিয়ান (এসএ) গেমস | প্রথম ব্রোঞ্জপদক | পাকিস্তানকে হারানোর ম্যাচে গোল |
| 2010 | বাংলাদেশ প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ | অংশগ্রহণ | নেপালের বিপক্ষে মাঠে |
| 2022 | সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ | প্রথম সাফ শিরোপা | অধিনায়ক হিসেবে ৮ গোল ও সর্বোচ্চ গোলদাতা |
| 2025 | ভুটান ফুটবল লীগ | খেলা | নিয়মিত গোল ও সাফল্য অর্জন |
| 2026 | সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ | প্রথম শিরোপা | সর্বোচ্চ ১৪ গোল ও দলকে নেতৃত্ব দেয়া |
জাতীয় দলে সাময়িকভাবে অনুপস্থিত থাকলেও সাবিনা খেলোয়াড় হিসেবে হারাননি। কোচ পিটার বাটলারের সঙ্গে বিদ্রোহের পর জাতীয় দলে ফিরতে পারেননি। তবে ২০২৫ সালে ভুটান ফুটবল লিগে অংশগ্রহণ এবং ২০২৬ সালে ফুটসাল জাতীয় দলে নাম লেখানোর মাধ্যমে নিজের জায়গা প্রতিষ্ঠা করেছেন।
সাফ ফুটসালে বাংলাদেশের চূড়ান্ত বিজয় এবং সর্বাধিক গোলদাতা হওয়ার পর বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়াল বলেছেন, “বাংলাদেশের একমাত্র ক্রীড়াবিদ হিসেবে ফুটবল ও ফুটসালে দলকে চ্যাম্পিয়ন করায় আমরা সাবিনার গর্বিত।”
শিরোপা উৎসবে যেমন সাবিনা চেনা ছিলেন, তেমনি নেতৃত্বে তিনি ছিলেন অটুট। মালদ্বীপকে হারানোর পর টিম হোটেলে বিশ্রাম নিয়ে ব্যাংককের নন্থাবুরি স্টেডিয়ামে ফেরার সময় সতীর্থদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে উঠেছেন। পদক ও ট্রফি বিতরণের সময়ও সর্বশেষে নিজ হাতে ট্রফি ধরে রাখেন, যা ফুটবলের চেয়েও কম মর্যাদাপূর্ণ নয়।
২০১০ সালে আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু, ২০২২ সালে সাফ জয়, ২০২৬ সালে ফুটসাল শিরোপা—সাবিনার প্রতিটি ‘প্রথম’ই বাংলাদেশের নারী খেলাধুলার ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা। তিনি শুধুমাত্র একজন খেলোয়াড় নন, তিনি একাধারে ইতিহাসের সাক্ষী এবং ক্রীড়া অনুপ্রেরণার জীবন্ত প্রতীক।