খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনা বিশ্বস্ত বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ক নাটকীয়ভাবে খারাপ হওয়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এটিকে সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম সংকটপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করছেন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উভয় দেশের প্রতি সংলাপ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের আহ্বান জানাচ্ছেন।
জাপান ও রাশিয়া ইতিমধ্যেই তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ২২ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরি বলেন, “উভয় দেশের মধ্যে বিশ্বাস ও বোঝাপড়া ছাড়া আঞ্চলিক সংযোগ ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি সম্ভব নয়। মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর শুধুমাত্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দৃঢ় করার জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে সংযুক্ত করার লক্ষ্য নিয়েও গড়ে তোলা হয়েছে।”
সম্প্রতি রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন ঢাকায় মন্তব্য করেছেন, “ঢাকা-দিল্লির মধ্যে যে কোনো উত্তেজনা দ্রুত কমানো জরুরি। দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা এটির ওপর নির্ভর করে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাশিয়া ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে এক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও মায়ানমারের বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়েছে এবং উভয় পক্ষই ঢাকা-দিল্লির উত্তেজনা হ্রাসের পক্ষপাতী ছিলেন।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জটিল হয়েছে ব্যবসায়িক বিবাদ, সীমান্ত ঘটনার কারণে, ভারতীয় মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর রিপোর্ট এবং আগরতলায় বাংলাদেশের হাইকমিশনের উপর হামলার মতো ঘটনার কারণে। যদিও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, ড. ইউনুসের সাম্প্রতিক চীনের সফর ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্ককে এখনও দূরত্বপূর্ণ রেখেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থের মধ্যে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা পুরো ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক সংকট গোষ্ঠীর একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান উত্তেজনার একটি অংশ ড. ইউনুসের পশ্চিমমুখী নীতি এবং ভারতের প্রতি সন্দেহজনক মনোভাব থেকে উদ্ভূত।
পশ্চিমা এক কূটনীতিক মন্তব্য করেছেন, “উভয় দেশের শত্রুতাপূর্ণ সম্পর্ক কেবল আঞ্চলিক ধারা নয়, অর্থনৈতিক প্রবাহ ও ইউরোপীয় বাণিজ্যকেও প্রভাবিত করছে। বাংলাদেশের বিদেশি বিনিয়োগ এবং ভারতের কাঁচামাল আমদানি ব্যাহত হচ্ছে।”
সরকারি পর্যায়ে বাংলাদেশ বারবার জানিয়েছে, তারা প্রতিবেশীর সঙ্গে বৈরিতা চায় না। অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আলাদা করার চেষ্টা করছি। ড. ইউনুস ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন এবং উভয় পক্ষ সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে।”
মূল বন্ধু রাষ্ট্রের উদ্বেগ ও সুপারিশসমূহ
| দেশ | মন্তব্য / সুপারিশ | তারিখ | প্রেক্ষাপট |
|---|---|---|---|
| জাপান | সম্পর্ক দৃঢ় ও আস্থা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন | ২২ ডিসেম্বর ২০২৪ | মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প |
| রাশিয়া | অবিলম্বে উত্তেজনা হ্রাস অপরিহার্য | ২০২৫ | দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা |
| যুক্তরাষ্ট্র | আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অপরিহার্য | ২০২৫ | পরবর্তী প্রশাসন নীতি পরিবর্তন |
| বিভিন্ন EU দেশ | শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক সমর্থন | ২০২৫ | নির্বাচন প্রভাব ও বিনিয়োগ পরিস্থিতি |
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক দায়িত্ববোধ, সংযমী কূটনীতি এবং উত্তেজনাপূর্ণ কর্মকাণ্ড এড়িয়ে চলা। বন্ধু রাষ্ট্রগুলি ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে খোলাখুলিভাবে সংলাপ চালিয়ে যেতে এবং ভবিষ্যতে চরমপন্থী গোষ্ঠী ও নির্বাচনী অস্থিতিশীলতার প্রভাব হ্রাস করার জন্য উৎসাহিত করছে।